স্থানীয় সংবাদ

বেনাপোল কাস্টমসে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ৪ সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স স্থগিত

বেনাপোল প্রতিনিধি ঃ বেনাপোল কাস্টমস হাউজে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকালে বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে এ তথ্য জানা যায়। স্থগিত লাইসেন্সগুলো হচ্ছে, মেসাস লিংক ইন্টারন্যাশনাল, রয়েল এন্টারপ্রাইজ, করিম অ্যান্ড সন্স এবং হুদা ইন্টারন্যাশনাল। তবে অধিকাংশ অনিয়মকারী নানান সখ্যতায় পার পেয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ রুবেল জানান, গত কয়েক মাসে আমদানি পণ্যে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য প্রবেশের সময় ১৪টি পণ্য চালান জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছিলো। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, সর্বশেষ গত রোববার (৫ এপ্রিল) বন্দরের ১৯ নম্বর শেডে কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমানের নির্দেশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘সিন্থেটিক ফেব্রিক্স’ ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের বড় চালান জব্দ করা হয়। কাগজে ২৬০ প্যাকেট থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ২৬৮ প্যাকেট। পণ্যের বাজারমূল্য ২৫ লাখ টাকা। এর আগে গত ১৪ মার্চ ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণার আড়ালে আনা প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। ৯ মার্চ ‘ঘাসের বীজ’ ঘোষণা দিয়ে পাট বীজ। ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টসের একটি চালানে অতিরিক্ত তিন টন পণ্য ধরা পড়ে। সর্বমোট ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি ধরা পড়েছে। বেনাপোল কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে বলে জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বন্দরের তথ্য বলছে, বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে ভারতের সাথে প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। তবে এসব পণ্যের সাথে যাতে কোন ভাবে মিথ্যা ঘোষনা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে মাদক, অস্ত্র বা অবৈধ পণ্য প্রবেশ না করে সে লক্ষ্যে বেনাপোল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন। যেটি কাস্টমসের তদারকিতে দেশ-বিদেশি দক্ষ জনবল দিয়ে পরিচালনা করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইবার এ্যাসোসিয়েটস। মেশিনটি নিখুত ভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম যে কোন ধরনের অবৈধ পণ্য। তবে রহস্যজনক বিষয় হলো স্ক্যানিং কার্যক্রম করার পরেও ট্রাকে প্রবেশ করছে অবৈধ পণ্য, মাদক ও অস্ত্র। গত ৩ মাসে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও বর্ডার গার্ড বিজিবির তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৫টি মিথ্যা ঘোষনার চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যেখানে প্রায় ২০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে দুই একটি পণ্য আটক হলেও অধিকাংশ অবৈধ চালান গোপন সখ্যতায় পাচার হয়েছে। যেসব পণ্য চালানের সাথে বেশি অনিয়ম হয়ে আসছে এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টস, কেমিকেল ও কাঁচামাল জাতীয় পচনশীল পণ্য চালান। এদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকলেও অবাধে ঢুকছে মাদক, আমদানি নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষনার বিভিন্ন পণ্য। এতে সরকার যেমন হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, তেমনি নিরাপদ বাণিজ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কাস্টমস সচেতন রয়েছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button