স্থানীয় সংবাদ

প্রবাসীর জমি ভূমিদস্যু নাজিম কর্তৃক জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ প্রবাসী বনি আমিনের ক্রয়কৃত জমি ভূমিদস্যু নাজিম কর্তৃক জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে বনি আমিন বলেন, আমি একজন ইরাক প্রবাসী। প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি আর তিল তিল করে জমানো উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজ দেশে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি জমি ক্রয় করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে আমি এক ভয়াবহ ভূমিদস্যুতার শিকার। এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু নাজিম, হাফিজা সুলতানা, হাবিবা সুলতানা ও খাদিজা সুলতানা, পিতা- এস এম হায়দার আলী। জনৈক ব্যক্তিগনের নামে একটি ভুয়া দলিল পেশ করে আমার বৈধভাবে কেনা জমি অবৈধ দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। কথিত আর্মি ড্রাইভার আরিফ মঞ্জুর পূর্বে আমার জমি দখলের চেষ্টা করেছিল। এক পর্যায়ে আরিফ মঞ্জুর দেখেন আমার দখলকৃত জমির কাগজপত্র ও দলিলাদি সব সঠিক রয়েছে। তারপরও তিনি চিহ্নিত ভূমিদস্যু নাজিমের সাথে চুক্তি করে নামমাত্র মূল্যে হাফিজা সুলতানা, হাবিবা সুলতানা ও খাদিজা সুলতানার নামে দলিল করে দেয়। তারপর থেকে আমরা যখনই জমিতে যাই ভূমি দস্যু নাজিম তার ঘরের মহিলাদের মব সৃষ্টি করার জন্য আমাদের উপর লেলিয়ে দেয় এবং ধর্ষণ মামলার হুমকি দেয়। এমকি নাজিমের স্ত্রী গাছের মগ ডালে উঠে আমাদের জমির সাইন বোর্ড খুলে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমি আইনসম্মতভাবে সব কাগজপত্র যাচাই করে এবং রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে এই জমি ক্রয় করি। বর্তমান রেকর্ড ও নামজারি (মিউটেশন) সহ সরকারের সকল কর (খাজনা) আমার নামে হালনাগাদ করা আছে। ২০২০ সাল থেকে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নাজিম এবং তার সহযোগীরা আমার জমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ এবং দখলের চেষ্টা শুরু করে। প্রবাসী হওয়ায় এবং দেশে না থাকার সুযোগে তারা আমার ওপর জুলুম চালিয়ে আসছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই চক্রের স্বভাব বদলায়নি। দুঃখজনকভাবে, ভূমিদস্যু নাজিম এখন বর্তমান ক্ষমতাসীন মহলের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে ফের আমার জমি দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের দাবি: আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি, অথচ নিজ দেশেই আজ আমার সম্পদ অনিরাপদ। জাল দলিলের মাধ্যমে আমার বৈধ জমি গ্রাস করার এই অপচেষ্টা আমি তীব্রভাবে ধিক্কার জানাই। আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই অনতিবিলম্বে এই জাল দলিলের পেছনের চক্র এবং মূল হোতা নাজিমকে আইনের আওতায় আনা হোক। আমার বৈধ মালিকানাধীন জমিতে সকল প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হোক। একজন প্রবাসীর জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বনি আমিন বলেন, আমি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন এই ভূমিদস্যুতার হাত থেকে আমার কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষা করা হয়। জমির ২৫ বছরের মালিকানার ধারাবাহিক ইতিহাস এবং পূর্ণাঙ্গ ব্রিফিং নিচে বিস্তারিতভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো: জমির প্রাথমিক পরিচিতি ও অবস্থান জেলা: খুলনা, থানা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: বটিয়াঘাটা। মৌজা: মাথাভাঙ্গা (জে.এল. নং ৮১), ইউনিয়ন: ১নং জলমা। খতিয়ান (জঝ): ২৭৯ (সাবেক খতিয়ান নং ৩৪ ও ৭১)। দাগ নম্বর (জঝ): ২৫৮ (সাবেক দাগ নং ৩৭৮)। জমির পরিমাণ: ০.০৮২৫ একর (যা ৫ কাঠা হিসেবে চিহ্নিত)। মালিকানার ২৫ বছরের ধারাবাহিক ইতিহাস (চেইন অফ টাইটেল), দলিলে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী মালিকানা যেভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে: আদি মালিক (বিহারী লাল ম-ল ও চুনি লাল ম-ল)। সি.এস. এবং এস.এ. রেকর্ড অনুযায়ী এই জমির মালিক ছিলেন বিহারী লাল ম-ল এবং চুনি লাল ম-ল। চুনি লাল ম-লের কোনো সন্তান না থাকায় এবং বিহারী লাল ম-লের মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র অজিত ম-ল ওয়ারিশ সূত্রে এই জমির মালিক হন। আর.এস. রেকর্ড অজিত ম-লের নামেই লিপিবিদ্ধ হয় (আর.এস. খতিয়ান নং ২৭৯)। অজিত ম-ল থেকে সালাম বিশ্বাস (২০১১ সাল), অজিত ম-ল গত ২/১০/২০১১ তারিখে বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৬৯৪১ নং কবলা দলিল মূলে সালাম বিশ্বাস-এর কাছে এই জমি বিক্রি করেন। সালাম বিশ্বাস জমিটি ক্রয়ের পর নিজের নামে নামপত্তন/মিউটেশন সম্পন্ন করেন (নামপত্তন কেস নং ৭০১(ওঢ-ও)/২০১১-২০১২)। সালাম বিশ্বাস থেকে জি,এম, মুজিবুর রহমান (২০১৪ সাল), পরবর্তীতে সালাম বিশ্বাস গত ২০/০১/২০১৪ ইং তারিখে বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ২৩৩ নং কবলা দলিল মূলে বর্তমান বিক্রেতা জি,এম, মুজিবুর রহমান-এর কাছে জমিটি বিক্রি করেন। মুজিবুর রহমানও ক্রয়ের পর নিজের নামে খতিয়ান সংশোধন ও নামপত্তন সম্পন্ন করেন (নামপত্তন কেস নং ৩৭৩৬(১)/২০১৩-২০১৪)। জি,এম, মুজিবুর রহমান থেকে আমি (২০১৭ সাল-বর্তমান দলিল), সর্বশেষ, বর্তমান দলিল মূলে (দলিল নং অজ্ঞাত, তারিখ: ১৪/০২/২০১৭) জি,এম, মুজিবুর রহমান আমার কাছে ১১,০০,০০০/- টাকার বিনিময়ে ৫ কাঠা জমি সাফ-কবলা বিক্রি করেছেন। পক্ষসমূহের বিস্তারিত তথ্য ঃ আপনি কার থেকে কিনলেন (বিক্রেতা): জি,এম, মুজিবুর রহমান, পিতা- মোঃ ইভাজ আলী গাজী, মাতা- মোসাঃ জরিনা বেগম। ঠিকানা: ১৭/২, মুন্সীপাড়া ২য় গলি, খুলনা সিটি। (পেশা: জমাজমি)। ক্রেতা আমি: মোঃ বনি আমিন, পিতা-মোঃ মোতাহের মশাইদ, মাতা-সুফিয়া বেগম। ঠিকানা: চন্দ্রপাড়া, কচুয়া, বাগেরহাট। বনি আমিন আরও বলেন, দলিলে উল্লেখ আছে যে, আমি বিক্রেতাকে জমির পূর্ণ মূল্য ১১ লক্ষ টাকা নগদে এককালীন পরিশোধ করেছি।
বিক্রেতা জমিটি সরেজমিনে আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং আজ থেকে আমি এই জমির নিরঙ্কুশ মালিক। সীমানা (চৌহদ্দি): উত্তর: সাধারণ চলাচলের রাস্তা, দক্ষিণ ও পূর্ব: আর.এস. ২৫৮ নং দাগের অবশিষ্ট জমি, পশ্চিম: আর.এস. ২৫৭ নং দাগের জমি। সারসংক্ষেপ: আমি যার থেকে কিনেছি (মুজিবুর রহমান), তিনি কিনেছিলেন সালাম বিশ্বাসের কাছ থেকে। সালাম বিশ্বাস কিনেছিলেন আদি রেকর্ডীয় মালিক অজিত ম-লের কাছ থেকে। অর্থাৎ, মালিকানার চেইনটি হলো: অজিত ম-ল→ সালাম বিশ্বাস→ মুজিবুর রহমান→ বনি আমিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button