প্রকল্প পরিচালকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু

# বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড #
# সার্টিফিকেট আদালতে মামলা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) খুলনার একজন প্রকল্প পরিচালক ও মাঠকর্মীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকা-, অর্থ লুটপাট, সদস্য ভর্তি নিয়ে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সার্টিফিকেট কোর্টে মামলা রুজু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বটিয়াঘাটা বিআরডিবি অফিসের প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ান ও মাঠকর্মী শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সমবায় সমিতিতে সদস্য ভর্তি, ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় এবং সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। ভুক্তভোগী মাধুরী মন্ডল বলেন, শারমিন আমার কাছ থেকে ভর্তি বাবদ বেশ কিছু টাকা নিয়েছে লোন দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু লোন চাইলে আজ না কাল বলে ঘুরাতে থাকে। এমনকি সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন সদস্য বলেন, ঋণ দেওয়ার কথা বলে মাঠকর্মী শারমিন আক্তারের সহযোগিতায় সুফিয়ান তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং) বাবদ আগাম টাকা নিয়েছেন। তাদের বলা হয়েছিল, প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুত ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও তারা কোনো ঋণ পাননি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুফিয়ান বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় গিয়ে বিআরডিবি সদস্যদের পাস বই ব্যবহার করে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামে সদস্য ভর্তি করান। পরে বিআরডিবি থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী সদস্য তৃপ্তি পাল ও অমিতা ম-লসহ একাধিক সদস্য জানান, ২০২৩ সালে তারা বিআরডিবি সমিতিতে সদস্য হয়। কিন্তু ঋণের জন্য আবেদন করলেও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ঘুরানো হচ্ছে। সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। বটিয়াঘাটা উপজেলা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুলতানা নাছরীন জানান, মাঠকর্মী শারমিন আক্তার ও প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ানের বিরুদ্ধে জেলা ও কেন্দ্রীয় অফিসে ডিডি বরাবর একাধিকবার লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্য তদন্ত শুরু হয়েছে ও সার্টিফিকেট আদালতে মামলা রুজু হয়েছে । তবে বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হয়নি বিআরডিবি খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।



