জনবল সংকট নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম

# যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভিতর রয়েছে আরো ৪৩ শয্যা #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ অপ্রতুল জনবলের মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভিতর রয়েছে আরো ২৮ শয্যার করোনারী কেয়ার ইউনিট, ১০ শয্যার আইসিইউ ও ৫ শয্যার এইচডি ইউ। বর্তমানে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভিতরে চলছে ২৯৩ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম। যার ফলে চরমভাবে হিমশিমের মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়াত। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,যশোর ১০০শয্যা হাসপাতাল থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। প্রথমে প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হলেও প্রকল্পের অধীনে ভবন এক্সটেনশন, (উন্নয়ন খাত) উল্লেখ করে জনবল নিয়োগ করা হয় ২০০২ সালে। এভাবে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ২০০৬ সালে তৎকালীন যশোরের স্বাচিপের নেতারা ২৮ শয্যা বিশিষ্ট করোনারী কেয়ার ইউনিটের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে জনবলহীন শুন্য অবস্থায় চালুর উদ্যোগ নেন। সে সময় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত রাজস্ব খাতের জনবল নিয়ে করোনারি কেয়ার ইউনিটের ২৮ শয্যা শয্যার কার্যক্রম শুরু করেন। অথচ এই ২৮ শয্যা হাসপাতালের জন্য যে পরিমান চিকিৎসক,নার্স ও বিভিন্ন পদে জনবল সম্বলিত অর্গানোগ্রাম পাশ করানো হয় তা অপ্রতুল। তার কারন ২৮ শয্যা করোনারী কেয়ার ইউনিটে প্রতিনিয়ত ৪৫ থেকে ৭৫জন ও গড়ে ৫৫- ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন, যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অভ্যন্তরে সর্ব সাকুল্য ২৯৩ শয্যার বিপরীতে প্রতিনিয়ত রোগী ভর্তি থাকে ৫৫০ থেকে ৭৮০জন। এই ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়াতের মতে দৈনিক গড় রোগী হয় ৬৩০জনের মতো। ১৫ শয্যার আইসিইউ ও এইচডিইউ বাদ দিলে দৈনিক গড় রোগী ৬১৫ জন ভর্তি থাকে। আর করোনারী কেয়ার ইউনিটের গড় রোগী ৫০ জন বাদ দিলে থাকে ৫৬৫জন রোগী দৈনিক গড়ে জেনারেল ইউনিটগুলোতে ভর্তি থাকে। তিনি আরো জানান,অত্র হাসপাতালে নার্সিং কর্মকর্তা রয়েছে ২২০জন জেনারেল হাসপাতালে ৫৬৫ জন দৈনিক গড় রোগী হিসাব করলে ৬জন রোগীর জন্য একজন নাসিং অফিসার। যা ৫ জন রোগীর জন্য ১জন নার্সিং অফিসার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ৬১৫ জন রোগীর জন্য প্রতি শিফটে নার্সিং লাগে ৯৪জন। এই ক্ষেত্রে মর্নিং,ইভিনিং ও নাইট এবং নাইট পরবর্তী ডে অফ হিসাব করলে ৪ শিফটে নাসির্ং অফিসার লাগবে ৩৭৬জন। এছাড়া, ১জন উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক,২১ জন্য নার্সিং সুপারভাইজার,আর বহির্বিভাগে বিভিন্ন কার্যক্রমে ২০জন নার্সিং অফিসার ধরলে লাগে ৪১৮জন। কিন্তু বর্তমানে নার্সিং অফিসার আছে ২২০জন অর্থাৎ শুধু জেনারেল শয্যার জন্য ঘাটতি রয়েছে ১৯৮জন।তিনি আরো জানান,সিসিইউ এর অর্গানোগ্রামেই ২৮ জন রোগীর বিপরীতে মাত্র ৩২জন নার্সের পদ রাখা হয়েছে। তাহলে ষ্ট্যান্ডার্ড জনবল থেকে বিচ্যুত এরুপ জনবল কাঠামো তৈরির মানে কি? খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,২৮ শয্যা বিশিষ্ট করোনারী কেয়ার ইউনিটে মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে ২৯ টি এর মধ্য কর্মরত পদে রয়েছে ২৬জন শুন্য রয়েছে ৩টি। এখানে সিসিইউ সিনিয়র কনসালটেন্ট,জুনিয়র কনসালটেন্ট,আবাসিক চিকিৎসক ১টি করে, মেডিকেল অফিসার (ইনডোর) ৪টি,মেডিকেল অফিসার আউটডোর ২টি,সহকারী রেজিষ্টার (কার্ডিলোজী) ১টি পদ শুন্য রয়েছে। এছাড়া,ইএমও (কার্ডিলোজী) ২টি পদ রয়েছেন। ২য় শ্রেনী পদ মর্যাদার নাসির্ং সুপারভাইজার ১টি পদ, সিনিয়র স্টাফ নার্সি ১২জন, ৩য় শ্রেনী পদ মর্যাদার কার্ডিও গ্রাফার ২টি পদ, অফিস সহকারী ১টি পদ ও অফিস সহায়ক ১টি থাকলেও তা শুন্য রয়েছে। যশোর ২৮ শয্যা বিশিষ্ট করোনারী কেয়ার ইউনিট যাতে জনবল বৃদ্ধি হয়। এখান থেকে আরো কোন স্ত্রী তার স্বামী,পিতা তার সন্তান,সন্তান তার পিতা,মাতা কাউকে হার্ড সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে না হয় তার জন্য সম্প্রতি বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। তিনি করোনারী কেয়ার ইউনিটের জনবল থেকে শুরু করে এর কার্যক্রমে আরো গতিশীল অবস্থায় ফিরে যায় তার জন্য তিনি অতি শ্রিঘই পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে যশোরের সব শ্রেনীর মানুষ আশা করেন। তাছাড়া, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জনবল অপ্রতুলের কারনে বহিরাগতরা ভর্তি রোগীদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তা তত্ত্বাবধায়ক থেকে শুরু করে যশোর বাসি কাহারও অজানা নেই। এই অবস্থা থেকে উন্নয়নের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রী,প্রতি মন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতের আশু হস্তক্ষপ কামনা করেছেন।



