খুমেকের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর ৯০ শতাংশই নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি। জন্মের পর ৯ ও ১৫ মাস বয়সে টিকা না নেওয়ার কারণে এ রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। খুমেক হাসপাতালের চতুর্থতলায় হাম রোগীর ওয়ার্ডে মঙ্গলবার দেখা যায়, ৩৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। বিশাল ওয়ার্ড ও বারান্দায় রোগী ভরা। তবে, শিশু রোগীদের সঙ্গে অভিভাবক রয়েছেন তিন-চার জন করে। ফলে ওয়ার্ডটি জনাকীর্ণ। এ কারণে এ ওয়ার্ডে চিকিৎসক, নার্সসহ সবারই স্বাভাবিক চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ এক্সরে মেশিন টেনে ওয়ার্ডের ভেতর নিতে সমস্যা হয়। জনাকীর্ণ পরিবেশে চিকিৎসকরা রোগীকে ঠিকমতো সময় দিয়ে দেখতে সংকোচে পড়েন। ওয়ার্ডের ভেতরেও বেডের পাশাপাশি মেঝেতে রোগী সয়লাব। বারান্দায় হাঁটার মতো উপায় নেই।হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সাড়ে তিন মাসের জয়কে নিয়ে আসেন ডুমুরিয়ার আমভিটার লাবণ্য। তিনি বলেন, ‘চার দিন জ্বরে ভোগার পর শরীরে হাম দেখা দেয়। এর ফলে ভোর রাতে এ হাসপাতালে আনেন। চিকিৎসা চলছে। ডাক্তাররা এসে দেখে ওষুধ দিয়েছেন। এখন শিশুটির কান্না থেমেছে।’তেরখাদা থেকে শিশু মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে আসা সাথী জানান, শিশুটির চার দিন আগে হাম শনাক্ত হয়। এরপরই এ ওয়ার্ডে নিয়ে আসেন। তাকে ৯ মাসে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৫ মাসে টিকা দেওয়া যায়নি। এরপর হামের কোনও টিকা দেওয়া হয়নি।’তেরোখাদার ৯ মাসের সাফোয়ানের মা রেশমা বলেন, ‘এক সপ্তাহ জ্বরে ভোগার পর দুই দিন হলো হাম দেখা দেয়। তাই এ ওয়ার্ডে আনা হয়েছে।’নড়াইলের কালিয়া থেকে ৯ মাসের রাজ্যকে নিয়ে এ ওয়ার্ডে আসা ঈদনী বলেন, ‘৬ দিন জ্বর ছিল। এরপর হাম দেখা দেয়। এখানে এনে তিন দিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছে।’এ ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে ৩৮ জন রোগী ভর্তি ছিল। এ ওয়ার্ডে রাউন্ডে থাকা ডা. সৈয়দা রোকসানা পারভীন বলেন, ‘এ ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীর ৯০ শতাংশই টিকা না নেওয়া। নির্দিষ্ট সময়ে এ সব রোগী হামের টিকা পায়নি। এ কারণেই এ রোগের এত প্রকোপ। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আর সবাইকেই বলেছি, সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়ে আগে টিকা নিতে।’ খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, ‘হামের টিকা প্রদান লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন খুঁজে খুঁজে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কোনও অসুস্থ শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। অসুস্থরা সুস্থ হলে এ টিকা পাবে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মে সকাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১১৮ জন নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৩২৯ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৯১২ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩ হাজার ৫০৬ জন। মারা গেছে ২১ জন। মৃতের মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার ১২ জন, খুলনার ৫ জন, ঝিনাইদহের ২ জন, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের একজন করে।



