ড্রিম টাচ কোচিং এখনো সচল : ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা প্রশাসনের নীরবতা

যশোর ব্যুরো ঃ যশোর শহরের নড়াইল রোডের নীলগঞ্জ এলাকায় পরিচালিত ড্রিম টাচ কোচিং সেন্টার নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষা প্রশাসন। গত ১৯ এপ্রিল জাতীয় ও স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে কোচিং সেন্টারটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রতিষ্ঠানটি আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রগতি বালিকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ড্রিম টাচ’ কোচিং সেন্টারে ওই বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রগতি বালিকা বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে এই কোচিংয়ে পড়তে উৎসাহিত করা হয় এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছেলে শিক্ষার্থীরাও সেখানে অংশ নেয়। অভিযোগে আরও বলা হয়,কোচিং চলাকালে অনেক সময় শিক্ষকরা প্রশ্ন লিখে দিয়ে শ্রেণিকক্ষের বাইরে চলে যান। এতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় তদারকি ছাড়া থাকে, যা নিয়ে অভিভাবকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এ কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আড্ডা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষকের দাবি, দীর্ঘ সময় কোচিং করানো হলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল আশানুরূপ নয়। গত বছর অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়নি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি বলে তারা উল্লেখ করেন। সূত্রের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে বাসায় পড়ানো শুরু হয় এবং ভবনের প্রবেশপথে একজন দারোয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কোচিংয়ের ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারেন না। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের লিখিত অনুমতি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়ানো যেতে পারে।এ বিষয়ে যশোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর সুযোগ নেই। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে এ বিষয়ে শিক্ষক মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেবার সম্ভব হয়নি।


