স্থানীয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের দোসর সেই চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষককে মারধরের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের জুলাই প্রেমিক শিক্ষক মনিরুজ্জামান মোড়লকে ‘হাড্ডি গুড্ডি ভেঙ্গে ফেলা’র হুমকির ঘটনায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সেই চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ১৭ জুলাই তিনি সোনাডাঙ্গা থানায় এ জিডি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়,“ আমি মোঃ মনিরুজ্জামান মোড়ল, প্রভাষক শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বানরগাতী বাজার, সোনাডাঙ্গা, খুলনা গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার কলেজে দুপুর ১২টায় নির্ধারিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুন্ঠানে উপস্থিত হই। আমাকে জুলাই শহীদ দিবসের বিষয়ে আলোচনার জন্য আহ্বান করলে আমি বক্তব্য প্রদান করি, পরবর্তীতে আমাদের সহকর্মী হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী প্রভাষক মোঃ সাইদুর রহমান বক্তব্য প্রদানকালে জুলাই বিপ্লবের কারনে আমরা কিছুই পাইনি বরং পূর্বের তুলনায় আরো অধিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছি বলে উক্ত দিবসের বিরোধপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করায় আমি অত্যন্ত নম্র ও সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতায় বলি, ‘স্যার বর্তমান সময়ে এমন বক্তব্য প্রদান করার সুযোগটাই তো জুলাই বিপ্লবের একটি অর্জন বলা যায়’। তখন সাইদুর রহমান স্যার বিষয়টি উপলব্ধি করে মেনে নিলেও হঠাৎ করে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম এম ইমরান হোসেন, প্রভাষক আয়েশা আবুবকর, প্রভাষক রায়হান আহমেদসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক পক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা মব সৃষ্টি করে একযোগে চেয়ার থেকে উঠে আমার উপর তেড়ে আসে এবং বলতে থাকে, ‘আপনি এমন কথা বললেন কেন, এত সাহস আপনাকে কে দিয়েছে, আপনাকে দেখে নিব, খুব বেড়েছেন’ এমন নানান উষ্কানি ও ভয়ভীতিমূলক ভাষা প্রয়োগ করতে থাকে। পরবর্তীতে সভা শেষ হলে আমিসহ সকলে শিক্ষক মিলনায়তন থেকে বের হয়ে আসার সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে আয়েশা আবুবকর ও রায়হান আহমেদ দু’জনে আমাকে লক্ষ্য করে উচ্চ স্বরে বলতে থাকে ‘এটাকে মেরে হাড্ডি গুড্ডি ভেঙ্গে দিতে হবে, এর এত সাহস হলো কোথা থেকে, না হয় এখানে চাকরি করবনা, এখানে চাকরি না করলে কি হবে, তবে একে দেখেই ছাড়বো’ ইত্যাদি।
আরও উল্লেখ করা হয়, এই রায়হান বিগত মিটিংগুলিতেও সরাসরি আমার নাম উল্লেখপূর্বক হুমকি স্বরূপ বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয় কলেজে। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে আমাকে চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি প্রদান করে, যদিও সে আমার সার্ভিসে ৬/৭ বছরের জুনিয়র, তার বিরুদ্ধেও কলেজে দলীয় প্রভাবে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সেখানেও আমার বিরুদ্ধে চড়াও হতে তাকে উষ্কানি দেয়।
উল্লেখ্য, সংখ্যার দিক দিয়ে কলেজে তাদের পক্ষের অবস্থান বেশি। এছাড়া অন্য সিনিয়র শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের সুবিধার্থে তাদের উষ্কানিমূলক ইন্ধন প্রদান ও অনুভিপ্রেত ভূমিকা রেখে চলায় তারা নিজেদেরকে আরো অধিক শক্তিশালী মনে করে। এছাড়া ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের গায়ে হাত তোলা শিক্ষকদের লাঞ্চিত করা, অভিভাবক ও নিয়োগ প্রত্যাশীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করাসহ এদের বিরুদ্ধে ছাত্ররা বিভিন্ন অপরাধের কারন দেখিয়ে কলেজে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে আন্দোলন করে। ওই ঘটনায় উল্লেখিত শিক্ষকগণ দীর্ঘ ২/৩মাস কলেজে অনুপস্থিত থাকে, পরবর্তীতে তাদের অপরাধের বিপরীতে মুচলেকাসহ কলেজে স্বাভাবিক আচরণ ও চলাফেরার শর্তে চাকরিতে পুণর্বহালের সুযোগ প্রদান করা হলেও তারা তাদের আচরণের কোন পরিবর্তন না ঘটিয়ে বরং প্রিন্সিপ্যালসহ অন্যান্য সিনিয়রদের সাথে কলেজের নানান বিষয়ে অযাচিত ও অসৌজন্যমূলক কৈফিয়ত আরোপ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এসব কারনে তারা নিজেদের সংগঠিত ক্ষমতাশীল মনোভাব ধারন করে আরো অধিক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় এহেন হুমকির কারনে আমি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button