স্থানীয় সংবাদ

বারবার বদলির আদেশ বাতিল : প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্য বিভাগ

# বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা সাইদুজ্জামানকে ঘিরে বিতর্ক #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম-হিসাব রক্ষক মো. সাইদুজ্জামানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ, বদলির সুপারিশ, বদলির আদেশ এবং পরবর্তীতে সেই আদেশ বারবার বাতিল হওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সিভিল সার্জন, খুলনার স্বাক্ষরিত ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, এক পত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)-এর কাছে মো. সাইদুজ্জামানকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়, বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, নার্সিং কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অন্যত্র বদলির আবেদন করেছেন।
সিভিল সার্জনের পাঠানো ওই পত্রে অভিযোগ করা হয়, কর্মরত অবস্থায় মো. সাইদুজ্জামান বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া প্রাক্তন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং কনসালট্যান্টদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নারী কর্মচারীদের সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়। তার আচরণের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও পত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবেদনের ভিত্তিতে সিভিল সার্জন স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে তাকে খুলনা জেলার অন্য কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলির সুপারিশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. সাইদুজ্জামান ২০১৭ সাল থেকে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগের পর তাকে বদলি করা হলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলার রায়ের পর ২০২৪ সালের জুন মাসে তার বদলির আদেশ কার্যকর হয়।
পরবর্তীতে তিনি ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আবার বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০২৬ সালে ৩০ এপ্রিল তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিঘলিয়ায় বদলির আদেশ দেয়। তিনি ২০২৬ সালের ৬ মে সেখানে যোগদান করেন। তবে মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে, ১৯ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওই বদলির আদেশ বাতিল করে।
একাধিক অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লিখিত আবেদন এবং সিভিল সার্জনের সুপারিশ থাকার পরও বারবার বদলির আদেশ বাতিল হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে । জানা গেছে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ (স্বাস্থ্য) এর উপজেলা সভাপতি এবং জেলা শাখার প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সাইদুজ্জামান। তিনি বলেন, “আমি কখনো বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শাখার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ছিলাম না। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। একটি পক্ষ আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে।”
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button