জুলাই আন্দোলনের দিনগুলি-২০

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক গভীর সংকটময় দিন
# নাহিদ ইসলাম নিখোঁজ
# ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
# দেশজুড়ে কারফিউ, সেনা মোতায়েন
এম সাইফুল ইসলাম ঃ চব্বিশের ২০ জুলাই, শনিবার। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সারা দেশে কারফিউ জারি, সেনা মোতায়েন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলির ঘটনা ঘটে। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১৫ জন, ময়মনসিংহ ও সাভারে চারজন করে, গাজীপুরে দুজন এবং নরসিংদীতে একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলায়ও সংঘর্ষ ও হতাহতের খবর আসে। আগের কয়েক দিনের প্রাণহানিসহ ২০ জুলাই পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৪৮-এ পৌঁছায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় খুলনা অঞ্চলের সাকিব রায়হান নামে এক যুবকের মৃত্যুর খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এদিন নতুন করে আলোচনায় আসে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। তাঁর মা অভিযোগ করেন, ১৯ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি করে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। কারফিউর মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে বলে জানান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কারফিউ চলাকালে সারা দেশে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। একই সময়ে সরকার রোববার ও সোমবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএও দেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এর আগে ১৮ ও ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ, সেনা মোতায়েন ও সাধারণ ছুটির মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয় সরকার।
তবে ২০ জুলাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিলÑদেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ থাকা। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখায় সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানের ঘটনাবলি তাৎক্ষণিকভাবে জানা ও প্রকাশ করা কঠিন হয়ে যায়। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ, সেনা মোতায়েন ও সাধারণ ছুটির মধ্য দিয়ে ২০ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক গভীর সংকটময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।



