স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ার হাজীগ্রামে বর্ষার বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা প্রশাসন

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের হাজীগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেলেঘাট সংলগ্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ঘন ঘন বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২০০টি পরিবার জলমগ্ন হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে জীবন যাত্রা পরিচালনা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর ও চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানিবন্দি এসব পরিবারের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে জলাবদ্ধ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। পরিদর্শন শেষে তিনি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যা, চাহিদা ও জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার ও উপজেলা প্রশাসন সবসময় রয়েছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, সেসব স্থানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আরও ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান, দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্ত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাত, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জামাল হুসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. সাইফুর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিক, সেনহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মোসলিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফারুক হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কুদরত ই এলাহী স্পিকার, সাবেক ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় শিশু, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। ত্রাণ সহায়তা পাওয়ায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ত্রাণ নয়, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় একই ভোগান্তি পোহাতে হবে শত শত পরিবারকে। জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকারের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস প্রদান করেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button