২৪ ঘণ্টায় ৪৮ নতুন সন্দেহজনক রোগী, মোট শনাক্ত ৮ হাজার ১৯৯

খুলনা বিভাগে হাম পরিস্থিতি
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিভাগে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য), খুলনা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ২১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় ৪৮ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৪৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে ২২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
খুলনা বিভাগ পরিচালক (স্ব্স্থ্যা) ডা: শেখ মো: মোশাররফ হোসেন জানান,, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৮ হাজার ১৯৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৫৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৭ হাজার ৪৯৮ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ৩০৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, নিশ্চিত হামে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। যদিও সন্দেহজনক হামে ৩২ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক গত ২৪ ঘণ্টার চিত্র
গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ১৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাট ও ঝিনাইদহে ৮ জন করে, কুষ্টিয়া ও নড়াইলে ৫ জন করে, মাগুরায় ৪ জন, মেহেরপুরে ৩ জন, এবং যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ১ জন করে নতুন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলায় নতুন কোনো সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়নি।
সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কুষ্টিয়া জেলায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ১২৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে খুলনা জেলায় ১ হাজার ২৭১ জন, মাগুরায় ১ হাজার ১৫০ জন, যশোরে ৮১৯ জন, ঝিনাইদহে ৬৮৮ জন, মেহেরপুরে ৫৪১ জন, নড়াইলে ৫০২ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪৬৭ জন, বাগেরহাটে ৪২৫ জন এবং সাতক্ষীরায় ২১৩ জন।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। তাই স্বাস্থ্য বিভাগ শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর সংস্পর্শ এড়ানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।



