আসামীর রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী প্রদান

# খুলনায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলা #
# রিমান্ডে আসামীর জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান #
# তদন্তের কার্যক্রম চলমান ও অন্যান্য আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন দত্তবাড়ী বালুর মাঠ এলাকার গত, ১ জুন সন্ধ্যায় একদল সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা সোনাডাঙ্গা থানাধীন আইডিয়াল কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন পুত্র দেলোয়ার সরকার (৩২)’কে পূর্ব পরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত জখম করে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলা করেন (মামলা নং- ৮, ১০ জুন২০২৬ ইং)। মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা হলেন- ১. দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকার বাসিন্দা আঃ জলিলেল পুত্র রানা গজাল রানা (৩৫), ২. দৌলতপুর থানাধীন নয়াপাড়া আসাদের মোড় এলাকার বাসিন্দা মৃত : আবুল হাশেম সরদারের পুত্র মোঃ মাহাবুবুল আলম (৪৫), ৩. দৌলতপুর থানাধীন মধ্যডাঙ্গা নগর মসজিদ রোড এলাকার বাসিন্দা মৃত : আব্দুস সালাম মাতুব্বর পুত্র রাসেল ওরফে পেচি রাসেল (৩০), ৪. দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা সাহেবপাড়া মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ সোহরাব হোসেন’র পুত্র মোঃ নাজমুল (৩৩) ও ৫. দৌলতপুর থানাধীন আঞ্জুমান রোড এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল শেখের পুত্র আজম (৪১)সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আসামী। এদিকে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের জন্য মহানগর আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী প্রদান শেষে পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বিজ্ঞ মহানগর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুর জামানের সম্মুখে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দীতে মামলার অন্যতম আসামী মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, রহস্য উদঘটন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শণাক্তের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করেছেন (মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রদানকৃত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে)। পুলিশ বলছে, হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় ভিকটিমের চাচাতো ভাই বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেন। ইতোমধ্যে ওই মামলায় এজাহার নামীয় ৪ আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে সোর্পদ করেছে। মামলার অপর এক আসামী খুলনা মহানগর বিজ্ঞ আদালতে আতœসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে, আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। পুলিশ আরও জানান, মামলার এজাহারনামীয় আসামি গজাল রানাকে গত, ১০ জুন মহানগরীর হরিণটানা থানাধীন জিরো পয়েন্ট মোড় এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। এহাজারভুক্ত আসামি পেচি রাসেলকে গত, ১৪ জুন দৌলতপুর থানাধীন মধ্যডাঙ্গা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। অপর আসামি মো. নাজমুলকে গত, ১৫ জুলাই দৌলতপুর থানাধীন মানিকতলা এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সর্বশেষ মামলার মাহবুব আলমকে আসামি গত, ১২ জুলাই খুলনা মহানগর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্র্রেট আসামীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, রহস্য উদঘটন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শণাক্তে মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামী মাহবুবুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত, ১৫ জুলাই মহানগর বিজ্ঞ আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে, আদালত দুই দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের জন্য বিজ্ঞ মহানগর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুর জামানের সম্মুখে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী প্রদান শেষে পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, বিজ্ঞ মহানগর আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দীতে মামলার অন্যতম আসামী মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, রহস্য উদঘটন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সন্নাক্তকরণে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করেছেন (মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রদানকৃত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে)।
এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার এজাহার নামীয় আসামি মাহবুবুল আলম মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের জন্য মহানগর বিজ্ঞ আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুর জামানের সম্মুখে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী প্রদান শেষে আদালতের নির্দেশে পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামী জবানবন্দীতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, রহস্য উদঘটন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শণাক্তের বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন। মামলার বাকী আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনর্চাজ মো. মোরাদুল ইসলাম জানান, হত্যা প্রচেষ্টার মামলার এহাজারনামীয় এক আসামী রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে মামলার গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করেছে। রিমান্ড শেষে ওই আসামী বিজ্ঞ মহানগর আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বাকি আসামী গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে।



