স্থানীয় সংবাদ

রামপালে টেকসই বেড়ী বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ উচ্চ জলোচ্ছাসের কারণে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় একটি বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামবাসী প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার কৈগরদাশকাঠির লিটুর চর এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকে শত শত বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার ও টেকসইভাবে বাঁধ পুননির্মাণের দাবিতে শনিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত লিটুর চরে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সময়মতো সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত শুক্রবার বাঁধটি ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ঢুকে বর্তমানে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট। তীব্র জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় এ বছর আমন চাষ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার করা না হলে ২ শতাধিক একর জমির আমন চাষ ব্যাহত হবে। এলাকাবাসী আরও জানান, পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আমন ধানের চারা। এতে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য ঘেরগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঘের মালিকদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন, মৎস্যঘের গুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লিটুর চরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের মধ্যে বসবাস করছেন। প্রতিবার বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকলে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। সাময়িকভাবে বাঁধ মেরামতসহ স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা। এ সময় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি ত্রাণ সহায়তা, সুপেয় পানির ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবি করেন। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে কৈগদ্দাসকাটি চরের কয়েকশত বাসিন্দাসহ স্থানীয় গৌরম্ভা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবর রহমান জোয়ার্দারসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে আমাদের দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহায়তা প্রদান ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এলাকাবাসীও বর্তমান সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এলাকার সংসদ সদস্য শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস তামান্না ফেরদৌসীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button