স্থানীয় সংবাদ

হারানো মোবাইল-টাকা উদ্ধারে ৩ এপিবিএনের সাইবার ইউনিটের সাফল্য

# এক মাসে ১০২ মোবাইল ও বিকাশ প্রতারণার ৭১ হাজার ৬১০ টাকা উদ্ধার #

খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি : হারানো মোবাইল ফোন কিংবা অনলাইন প্রতারণায় অর্থ খোয়ানোর পর যখন অনেকেই ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন, তখন প্রযুক্তির সহায়তায় ভুক্তভোগীদের সেই হারানো সম্পদ উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে ৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), খুলনার অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স শাখার সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ধারাবাহিক অভিযানে শুধু আগস্ট মাসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০২টি হারানো মোবাইল ফোন এবং বিকাশ প্রতারণার ৭১ হাজার ৬১০ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ইউনিটটি। একই সঙ্গে জিডির ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে একজন ভিকটিমকেও।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা, হারানো মোবাইল উদ্ধার এবং ফেসবুক ও অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে ৩ এপিবিএন খুলনার সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। শুধু অপরাধ দমন নয়, প্রতারণা ও বিভিন্ন অপরাধের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও ইউনিটটির কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। ৩ এপিবিএন, খুলনার অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীনের নির্দেশনায় অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স শাখার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। অধিনায়কের সুনিপুণ দিকনির্দেশনায় এবং সহ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসিন আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. আলী নওয়াজের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইউনিটটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন থানায় হারানো মোবাইল ফোন সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান শনাক্ত করা হয় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উদ্ধার করা হয় এসব মোবাইল। আগস্ট ২০২৬ মাসে এ প্রক্রিয়ায় মোট ১০২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
একই সময়ে বিকাশ প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগ ও জিডির ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে ৭১ হাজার ৬১০ টাকা উদ্ধার করে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। পাশাপাশি জিডির ভিত্তিতে একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ আগস্ট রবিবার সকাল ১০ টায় ৩ এপিবিএন, খুলনার অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম সালাহউদ্দীন উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশ প্রতারণার উর্দ্ধারকৃত অর্থ প্রকৃত মালিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এ সময় অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীন বলেন, “জনসাধারণের ইতিবাচক সাড়া পেলে আমরা আরও অধিকসংখ্যক ভুক্তভোগীকে আইনি সেবা প্রদান করতে পারব।” দীর্ঘদিন পর হারানো মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। সাইবার অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হওয়ায় অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ৩ এপিবিএন খুলনা। হারানো মোবাইল উদ্ধার থেকে শুরু করে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ মোকাবিলায় সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তৎপরতা সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, দক্ষতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর দিকনির্দেশনার সমন্বয়ে ৩ এপিবিএন খুলনার সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে অনলাইন প্রতারণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে জনসাধারণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button