স্থানীয় সংবাদ

ফুলতলা এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার আতিকের ঘুষ কেলেংকারী

ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার : ফুলতলা উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের ঘুষ বাণিজ্যের কল রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসককের কার্যলয় থেকে ইতিমধ্যে তদন্তটিম গঠন করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
জানা গেছে, ফুলতলার উত্তর ডিহির ইদ্রিস ফারাজীর আবেদনকৃত অর্পিত সম্পত্তির অবমুক্তির বিষয় প্রতিবেদন রিপোর্ট পাঠানো নিয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আর এই ঘুষ গ্রহণের দাবিদবার কথোপকথনটি ইদ্রিস ফারাজীর ভাগ্নে মোবাইলে রেকর্ড করেন। ওই রেকর্ডটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার হওয়ার পর থেকে আতিকের রমরমা ঘুষ বাণিজ্যের ভাটা পড়ে। এ দিকে আতিকের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। শুধু ইদ্রিস ফারাজী নয়। আরও কয়েক ডজন ব্যাক্তির নিকট সার্ভেয়ার আতিক মোটা অংকের অর্থ নিয়ে কাজ করছে না এমন বক্তব্য ভুক্তভোগীদের। শিরোমনির নাহিরা বেগম জানান, আতিক সার্ভেয়ার আমাদের অভিযোগকৃত একটি জমি মাপার বিষয় ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন, আমি নিরুপায় হয়ে টাকা দিতে বাধ্য হই। তিনি আরও জানান, টাকা দেওয়ার পরেও আতিক সার্ভেয়ার আমাদের ওই জমি মাপতে আসেনি।
ফুলতলার আমিরুল ইসলাম জানান, আমার একটি জমির কাজ নিয়ে আতিক সার্ভেয়ারের নিকট গেলে তিনি প্রতি শতকে ১ হাজার টাকা দাবি করেন। মোট ৪৮ শতকে ৪৮ হাজার টাকা চান। দিতে ব্যার্থ হওয়ার কারণে আমাকে ঘুরতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী তিনিও জানান, আমার একটি রিপোর্টের জন্য সার্ভেয়ার সাহেবকে (আতিক) ১০ হাজার টাকা প্রদান করি। তবে আদৌ কাজটি হয়নি। উত্তর ডিহির ইদ্রিস ফারাজী বলেন, আমি খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের নিকট আতিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি। বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আমাদের ডেকেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আতিকুর রহমান যেখানে কর্মরত থাকেন, সেখানেই বিষ ফোঁড়া হয়ে উঠেন। রুপসা উপজেলা ভূমি অফিসে আতিক কর্মরত থাকাকালীন ২০২৩ সালের ১৯ জুন দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রদান করেন ভূমিহীন প্রতিবন্ধী জাবেদ আলী শেখ। রুপসা ভূমি অফিসেও ঘুষ কেলেংকারীর অভিযোগ উঠলেও তখন আতিকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে বর্তমান কর্মস্থল ফুুলতল উপজেলা ভূমি অফিসে এসে আতিক লাগামহীনভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগসহ প্রমান হিসেবে ভয়েস রেকর্ডিং থাকলেও কোন এক অজানা কারণে এখনও ফুলতলা উপজেলা ভূমি অফিসে আতিকুর রহমান বহাল তবিয়তে কাজ করছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আতিকের ঘুষ বাণিজ্যের অডিও রেকর্ডটি ফাঁস হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন কর্তৃপক্ষ। এদিকে আতিক নিজেও দৌড় ঝাঁপ শুরু করছেন যাতে কোন প্রকার শাস্তির সম্মূখীন তার হতে না হয়। ফলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ধন্যা দিচ্ছেন যাতে সব কিছু ধামাচাপা পড়ে। তবে সময় বড় বেরহম। এবার নদীর স্রোত আতিকের বিরুদ্ধে। স্বয়ং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি আতিকের ঘুষ বাণিজ্যের অডিও রেকর্ড পেয়ে তিনি তদন্তের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি মুঠোফোনে জানান, এগুলো আমাদের নলেজে এসেছে, আমি সচিবকে দিয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button