স্থানীয় সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যায় খুবির ৪ শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী মো. কুতুব উদ্দিন (৪৬)। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার তিতুদহ ইউনিয়নের বড় শলুয়া মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলেনÑখুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৭-এর শিক্ষার্থী রবিন (২৪), ম্যাথমেটিক্স ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৯-এর শিক্ষার্থী সাগর (২২), এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-২৬-এর শিক্ষার্থী ওবায়দুল (২০) এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৯-এর শিক্ষার্থী মবিন (২২)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাস্থলে আজমুলের মাথার চুল কেটে দেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজন যুবক রাত দেড়টার দিকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার মসজিদ গলির একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। এদিকে আজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন রোববার দুপুরে বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা চারজনই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখন প্রকাশ করতে অপারগতা জানান তিনি। ওসি আরও জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন এসআই নাজমুল হুদা। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button