নড়াইলে হত্যাকা- ঘিরে তা-ব : বাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

লোহাগড়া প্রতিনিধি ঃ আধিপত্য বিস্তারের জেরে হাসান শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি হত্যার শিকার হওয়ার পর নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে চরম ধ্বংসযজ্ঞ। প্রতিপক্ষের অন্তত ১২টি বসতবাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসীর কষ্টার্জিত পাকা দালান থেকে শুরু করে সাধারণ টিনের ঘর, সবই এখন মাটিতে মিশে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই তা-বে তাদের প্রায় কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরুষ শূন্য পুরো এলাকাতে সুনসান নীরবতা আর ধ্বংসের ছাপ। রাস্তার এক কোণে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে অশ্রুসিক্ত চোখে তাকিয়ে বিলাপ করছিলেন তছিরুন নেছা নামে এক নারী। তিনি জানান, প্রবাসী ছেলে মামুন শেখের তিল তিল করে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়স্থলটি চোখের সামনে ভেঙে গুঁড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মেয়েকে নিয়ে থাকার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই, উল্টো ভিটায় এলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এলাকার অন্যান্য ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, সামাজিক বিরোধ বা হত্যাকা-ের জেরে পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সোহেল মেম্বার গ্রুপ ও আবেদ শেখ গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও সোহেল মেম্বার গ্রুপের গুলিবিদ্ধ কর্মী হাসান শেখ পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হাসানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষ আবেদ শেখ গ্রুপের লোকজন বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যায়। এই সুযোগে প্রতিপক্ষের ১২টি বাড়িতে কয়েক দফায় ভাঙচুর, মূল্যবান মালামাল লুট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল মেম্বার দাবি করেন, নিহতের মরদেহ ও দাফন নিয়ে তারা ব্যস্ত ছিলেন; কে বা কারা এই ভাঙচুর চালিয়েছে তা তিনি জানেন না। এদিকে লুটপাটের ঘটনায় শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াগাতী থানা পুলিশের একটি দল কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের দশআনিপাড়ার মল্লিক বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পিয়াস মল্লিক ও তার ভাই পলাশ মল্লিকের ঘর এবং পেছনের পুকুরে লুকিয়ে রাখা লুটের মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪টি লোহার জানালা, ১টি লোহার দরজা, বারান্দার গ্রিল, সেলাই মেশিন ও ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র। অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্ত পিয়াস মল্লিক পালিয়ে যায়। নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলী জানান, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে পুকুর ও ঘর থেকে লুট হওয়া কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



