দৌলতপুরে গুলিসহ গ্রেফতারকৃত বাদশা রিমান্ড শেষে কারাগারে

# বাদশার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে ! #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নিহত গোলাম রব্বানী টিপুর বাসায় অভিযান চালায় ডিবি। এ সময় ১৪১ পিস টু-টু বোরের ও ১৩ পিস শর্টগানের গুলি ও চাকুসহ তাঁর বড় ভাই গোলাম রসুল বাদশাকে গ্রেফতার করে। ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন উত্তর পাড়ায় টিপুর বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৪১ পিস টু-টু বোরের গুলি ও ১৩ পিস শর্টগানের গুলি ও চাকুসহ নিহত সাবেক কাউন্সিলরের ভাই গোলাম রসুল বাদশাকে তার নিজ ঘরের থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত গোলাম রসুল বাদশা নিহত সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপুর বড় ভাই। এ ঘটনায় ডিবি বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবি এসআই বিধান। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত বাদশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানী শেষে আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বৃহস্পতিবার বাদশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত গুলি তার নিজের। এগুলো তালিকাভুক্ত করতে ভুলে গেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এসব খোড়া যুক্তিতে কাজ হবে না। অবৈধ গুলি রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়া হবে। এতে করে তার নিজ নামীয় অস্ত্রের লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে। বিশিষ্ট আইনজীবী এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, নিজ অস্ত্রের অবৈধ গুলি পাওয়া গেলে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। অপর এক আইনজীবী বলেন, বৈধ অস্ত্রের কোন একটি অংশ অবৈধ প্রমাণিত হলে অস্ত্রের লাসেন্স বাতিল হবে। বাদশারও তাই হয়েছে। তিনি বলেন, এ গুলি কোথা থেকে ক্রয় করা হয়েছে তার বৈধ কাগজপত্র। অনুমোদন কত পিস রয়েছে। অনুমোদনের বাইরে কোন গুলি ক্রয় করা বা হেফাজতে রাখা আইনগতভাবে ঠিক নয়। তিনি যদি বেসরকবারী কারিগরি স্কুলের একজন সাধারণ শিক্ষক হন তাহলে তিনি কি কারণে কিভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন তাও খতিয়ে দেখা দরকার।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজারে গুলিতে নিহত হন খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু (৪৬)। তিনি নগরীর দৌলতপুর উত্তর পাড়া এলাকার মো. গোলাম আকবরের ছেলে। ওই দিন রাত ৯টার দিকে কক্সবাজারে দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন । তিনি নিষিদ্ধ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ছিলেন।


