গাজায় ভয়াবহ পাল্টা হামলা : একদিনে নিহত ২৪ ইসরায়েলি সেনা

ইসরায়েলের দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হামাসের
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইসরায়েল। অবরুদ্ধ এই ভূখ-টিতে অভিযান চালানোর সময় পাল্টা হামলায় একদিনে ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এবারই প্রথম একদিনে এতো বেশি সংখ্যক সেনা হারালো। অপরদিকে ইসরায়েলের দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনী সংশস্ত্র সংগঠন হামাস। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় একদিনে ২৪ জন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে বলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে। এর মাধ্যমে গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এক দিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সেনার মৃত্যু দেখল ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিস্ফোরণে ২১ সেনা নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা একটি ট্যাংকে রকেট চালিত গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং একই সময়ে দুটি ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করার জন্য বিস্ফোরক স্থাপন করছিল। বিস্ফোরণের জেরে ভবনগুলো সৈন্যদের ওপর ধসে পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও ঘটনার বিবরণ এবং বিস্ফোরণের কারণগুলো বোঝার চেষ্টা করছি এবং তদন্ত করছি। এর আগে আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছিল, দক্ষিণ গাজায় পৃথক হামলায় তাদের আরও তিন সেনা নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা রয়টার্সকে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমাঞ্চলের গভীরে হামলা চালানোর পাশাপাশি বিমান, সমুদ্র এবং স্থলপথে বোমাবর্ষণ করে চলেছে। এছাড়া খান ইউনিসের একটি হাসপাতালে হামলা এবং চিকিৎসা কর্মীদের গ্রেপ্তারও করেছে ইসরায়েল। অবশ্য হামলা শিকার হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনও কথা বলা হয়নি এবং ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্রের অফিস থেকেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কিদরা বলেন, খান ইউনিসে গত রোববার রাতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আর চিকিৎসা অবকাঠামো অবরোধের অর্থ হলো কয়েক ডজন মৃত ও আহত ব্যক্তিরা উদ্ধারকারীদের নাগালের বাইরে থেকে যান। এই পরিস্থিতিতে নিরপরাধ ফিলিস্তিনি ও চিকিৎসা কর্মীদের রক্ষা করতে ইসরয়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি সোমবার বলেছেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে ‘আমরা আশা করি তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তা করবে এবং হাসপাতাল, চিকিৎসা কর্মী এবং রোগীদের পাশাপাশি নিরপরাধ লোকদের রক্ষা করবে, যতটুকু সম্ভব’। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস যোদ্ধারা হাসপাতালে এবং এর আশপাশে তাদের কর্মকা- পরিচালনা করে থাকে। যদিও হামাস এবং গাজার চিকিৎসা কর্মীরা এটি অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূখ-টিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬৩ হাজার মানুষ। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
অপরদিকে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্ত করতে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েল। তবে যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসরের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। এছাড়া গাজা উপত্যকা ছেড়ে নিরাপদে অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়ার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) জানায়, হামাসকে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ইসরায়েল। এছাড়া ইয়াহিয়া সিনওয়ারসহ সশস্ত্র এ গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিরাপদে গাজা ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেয় দখলদার ইসরায়েল। ইসরায়েলের এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হামাস জানিয়েছে, জিম্মিদের মুক্ত করতে চাইলে সব সেনাকে গাজা থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। যেন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা তাদের ঘর-বাড়িতে ফিরতে পারেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিসরের ওই কর্মকর্তা আরও এপিকে জানিয়েছেন, কাতারের সঙ্গে তারা এখন একাধিক প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। যেসব প্রস্তাবে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ, জিম্মিদের মুক্তি এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ। গত বছরের নভেম্বরে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় সাতদিনের যুদ্ধবিরতি পালন করে হামাস ও ইসরায়েল। ওই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হামাস ১০৫ জিম্মিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু জিম্মিদের মুক্তির শর্ত নিয়ে মতভেদ দেখা দেওয়ায় সেই যুদ্ধবিরতিটি ভেস্তে যায়। এখন ইসরায়েল আবারও যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে হামাস জানিয়েছে, তারা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা ছাড়া অন্য আর কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না।



