জাতীয় সংবাদ

স্কুল ছাত্রকে হত্যার পর মেঘনায় লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয়

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ নিষেধ করা সত্বেও ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্ধের জেরধরে নবম শ্রেণীর ছাত্র কিশোর ওমর ফারুক শুভকে (১৫) হত্যা করে লাশ মেঘনায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রায় একমাস পর পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ধার করেছে। নিহত শুভ জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার লেঙ্গুটিয়া গ্রামের ইব্রাহিম খন্দকারের ছেলে। গতকাল বুধবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি ইয়াছিনুল হক বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে ভোলা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নিহত শুভ উপজেলার জাঙ্গালিয়া মাধ্যমিক স্কুল এ- কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মজিদ রাঢ়ীর ছেলে মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী (৩৭), আম্বিকাপুর গ্রামের বাদল পহলানের ছেলে ইসমাইল পহলান (১৮), বাছেদ খানের ছেলে হাসিবুর রহমান (১৪) ও গাজীরচর গ্রামের জুয়েল হোসেনের ছেলে আহাদ হোসেন (১৪)। গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি বলেন, আসামি মাইদুলের মেহেন্দিগঞ্জের লেঙ্গুটিয়া বাজারে একটি ভাঙারির দোকান রয়েছে। সেই দোকানে স্কুল ছাত্র ওমর ফারুক শুভ মাঝেমধ্যে কাজ করতো। যেকারণে তাদের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসামি মাইদুল ছয় মাস আগে ব্যবসায়ী কাজের গতি বাড়াতে একটি পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় করেন। কিন্তু মাইদুল মোটরসাইকেল চালাতে পারতেন না। তবে ওমর ফারুক শুভ মোটরসাইকেল চালাতে পারতো। সে সুবাদে মাইদুলের গাড়িটি প্রায়ই শুভ নিয়ে চালাতো। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। যা তিক্ততায় রূপ নিলে গত ৬ জুন শুভকে পরিকল্পিতভাবে ভোলার চরফ্যাশনে নিয়ে যায় মাইদুল। ওইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সহযোগিদের নিয়ে শুভকে হত্যা করে মাইদুল। পরবর্তীতে সবাই মিলে শুভর লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। একদিন পর মেঘনার তীরে চরফ্যাশন থানা পুলিশ অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমান মফিদুলের কাছে হস্তান্তর করে। তারা অজ্ঞাত হিসেবে শুভর লাশ দাফন করেন। অপরদিকে ছেলেকে না পেয়ে নিখোঁজ কিশোর শুভর বাবা ইব্রাহিম খন্দকার মেহেন্দীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে হত্যার তথ্য উদঘাটন করে উল্লিখিত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button