হবিগঞ্জে পুলিশ-আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যুবক নিহত

প্রবাহ রিপোর্ট : হবিগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোস্তাক মিয়া (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিজিবি) এক ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন। মোস্তাক মিয়ার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মমিন উদ্দিন চৌধুরী। মোস্তাকের বাড়ি সিলেটের টুকেরবাজারে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক মানুষ আহত হন। মোস্তাক মিয়ার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রায় ২ হাজার রাউন্ড টিয়ারশেল এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। পিজিবির ঠিকাদারের সুপারভাইজার নূর বখত বলেন, মোস্তাক আমার অধীনে কাজ করতেন। দুই দিন আগে আমরা হবিগঞ্জে কাজ করতে এসেছি। এখানে ভাঙাপুল এলাকায় ছিলাম। আজ (গতকাল শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মোস্তাক শহরে যায় জুতা কিনতে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে এসে দেখি, সে মারা গেছে। এদিকে হবিগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জেলা শহরের প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সংঘর্ষে যোগ দেন। দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে দুপুর দেড়টায় জড়ো হন। পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কিছু সদস্যও সেখানে অবস্থানে ছিল। হঠাৎ শায়েস্তানগরের দিক থেকে আসা একটি বিক্ষোভ মিছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে দিয়ে এসে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয়। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা টাউন হল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পাশেই তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে আন্দোলনকারীরা হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়ানো হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।
