ছাত্র-জনতা এগিয়ে না এলে গর্তেই পড়ে থাকতাম : সাবেক বিচারপতি

প্রবাহ রিপোর্ট : সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন বলেছেন, ছাত্র-জনতা এগিয়ে না এলে আমরা যে গর্তে ছিলাম, সেখানেই পড়ে থাকতাম। গতকাল শনিবার অরাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কনস্টিটিউশনাল রিফর্মস ফর ট্রানজিশন টু ডেকোক্রেটিক গভর্নেন্স’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্ট্যাডিজ (বিআইপিএস) এ আয়োজন করে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ দস্তগীর হোসেন বলেন, আমরা একজনের কথায় উঠা-বসা করতাম। সোনার বাংলাকে তামা বানিয়ে দিয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বলবো, সংস্কার কমিটি আর বাড়ায়েন না, সবাই একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। কমিটি করে কিছু হবে না। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত আরেক বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, রায়ের তোয়াক্কা না করে নিজের সিদ্ধান্তে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে দেন শেখ হাসিনা। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হয়নি, শুধু তোষামোদি হয়েছে। বিচার বিভাগ ও সংসদ ভূমিকা হারিয়েছিল। বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা জরুরি। স্বাধীন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেনি, ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ ছিল। বিচার বিভাগে স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুর্নবহাল করা প্রয়োজন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করতে হবে, না হয় সংশোধন করতে হবে। সাবেক বিচারপতি মতিন আরও বলেন, সব অধিকার সংবিধানে লেখা থাকে না। কিছু অধিকার সবকিছুর ঊর্ধ্বে, ছাত্ররা এবার বিপ্লবে তাই প্রয়োগ করেছে। মিডিয়াকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। মিডিয়াকে হত্যা করতে সাইবার সিকিউরিটি আইন করা হয়েছিল। দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই ঠিক মতো দাঁড়াতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, সংবিধান পুর্নলিখনের ক্ষমতা বর্তমান সরকারের নেই। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনলে রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন হয়ে যাবে।



