বেড়িবাঁধ ভেঙে ফেনীর ৩০ গ্রাম প্লাবিত

প্রবাহ রিপোর্ট : টানা বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ফেনীর মুহুরী ও ছোট ফেনী নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ফুলগাজী, পরশুরাম ও সোনাগাজী উপজেলার কমপক্ষে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে ফুলগাজীর জঙ্গল ঘোনা, সাহেবনগর, গদানগর ও দেড়পাড়া, পরশুরামের পশ্চিমাঞ্চল ও সোনাগাজীর দক্ষিণাংশে পানি ঢুকে বসতঘর, ধানক্ষেত, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল স্রোতের চাপ সামলাতে না পেরে দুর্বল বাঁধগুলোর একাধিক স্থানে ভেঙে পড়ে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ চলছে। তবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক পরিবার উঁচু রাস্তা ও স্কুলঘরে আশ্রয় নিয়েছে। বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে না পেরে অনেকে গবাদি পশু ও শিশুদের নিয়ে উন্মুক্ত স্থানে রাত কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবারই বর্ষায় একই স্থানে বাঁধ ভাঙে। কিন্তু স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে গত মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৪৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যা চলতি বর্ষা মৌসুমের সর্বোচ্চ। ফুলগাজী ও পরশুরামের নদীর বাঁধে ভাঙনের ফলে একের পর এক গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙেছে জঙ্গলঘোনা, অলকা, শালধর ও উত্তর শ্রীপুর এলাকায়। কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙেছে সাতকুচিয়া, বেড়াবাড়িয়া ও দৌলতপুরে। এ ছাড়া সিলোনিয়া নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা গেছে গদানগর ও দেড়পড়া এলাকায়। পরশুরামের চিথলিয়া এলাকার গৃহবধূ জাকিয়া আক্তার জানান, রাত ৮টার দিকে পানি ঘরে ঢুকে পড়ে। কোনোরকমে কিছু জিনিস নিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। গতবারের বন্যায় যা হারিয়েছি, এবার আবার সেই দুঃখ ফিরে এলো। মির্জানগরের রফিকুল ইসলাম বলেন, পাউবোর গাফিলতির কারণেই বল্লামুখা বাঁধের প্রবেশ মুখ বন্ধ করা হয়নি। প্রতি বছর কিছু লোকের দায়িত্বহীনতার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় মোট ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফুলগাজীতে ৩২টি মাধ্যমিক ও ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরশুরামে ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম জানান, উপজেলায় তিনটি নদীর বাঁধ ভেঙেছে চারটি স্থানে। আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে শতাধিক মানুষ এসেছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে গতকাল বুধবার থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা প্রশাসন। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, অনেক সাব-স্টেশন ও বৈদ্যুতিক মিটার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি আরও বাড়লে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার পরিধি বাড়তে পারে। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, রাত ১২টার পর মুহুরী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন করে আরও এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে সাড়ে ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।



