ডাকসু নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের চেম্বারে স্থগিত

প্রবাহ রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। এ আদেশের ফলে নির্বাচন হতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা বিবিধ আপিলের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এর আগে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবরে বিক্ষুব্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ভিসির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ডাকসু আমার অধিকার রুখে দেয় সাধ্য কার, হাইকোর্ট না ডাকসু, ডাকসু ডাকসু’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে থেকে চলে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী শিশির মনির জানান, একটি রিট করে রুল নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা এ বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে চেম্বার জজের আদালতে হাতে লিখিতভাবে আবেদন করি। এ আবেদন নিয়ে চেম্বার জজ হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ সিএমপি ফাইল বা শুনানির আগ পযন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ডাকসু নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধা থাকল না। প্রচারণাও চালানো যাবে। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সকালে অফিস খুললেই সিএমপি দায়ের করব। আশা করি আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) শুনানি হবে। আদেশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী শিশির মনির জানান, অনেক প্রস্তুতি শেষ হয়ে গেছে। ২৬ তারিখে ফাইনাল প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর পাঁচ দিন চলে গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া যদি স্থগিত থাকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, তাহলে ছাত্রদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, এই জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি , যতদ্রুত সম্ভব ঘণ্টা-মিনিট হিসাব করে চেম্বার জজের আদালতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করব। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব যেন ধৈর্যের পরিচয় দেন। এটা আদালতের বিষয়, আদালতে ফয়সালা হোক। আশাকরি প্রতিকার পাব। তিনি আরও বলেন, এটাকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ্য ইস্যু মনে করে আমরা এরইমধ্যে আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে। আশা করি আজ (গতকাল সোমবার) অথবা আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) আইনি পদক্ষেপ দেখতে পারবেন। ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট মনোনীত ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম এ রিট দায়ের করেন। রিটে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এস এম ফরহাদ ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে’ ছিলেন। এরপরও তিনি কীভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেলে প্রার্থী হলেন- এমন প্রশ্ন তুলে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করা হয় রিট মামলায়। ডাকসুর ভোটগ্রহণের জন্য আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে। শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে সাদিক কায়েম ভিপি ও এস এম ফরহাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডাকসু নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭১। গত ২৬ আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে সদস্য পদে। এবার মোট ২১৭ জন প্রার্থী সদস্য পদে লড়বেন। সবমিলিয়ে ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী।



