জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও নিজেদের সুরক্ষা দিতে হবে

‘জুলাই শহীদ’ পরিবার
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে সরকারকে সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়ার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সদস্যরা। গতকাল রোববার বিকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে জুলাই শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। ঐকমত্য কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যেসব আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তাদের স্বজনরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা আজও পূরণ হয়নি বলে তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, বিভিন্ন দপ্তরে তারা নানাভাবে লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া নানা সময়ে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলেও অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলেও শহীদ পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “শহীদ পরিবারবর্গ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের একটি আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন, একইসঙ্গে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও জরুরি। “এ বিষয়ে উপস্থিত সকল শহীদ পরিবারের সদস্যরা একমত পোষণ করেন।” কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, তারা জানেন যে ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শহীদ পরিবারগুলো যে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন-তা তাদের জানা ছিল না। কমিশন জুলাই শহীদ পরিবারকে আশ^স্ত করেছে, তাদের সব বিষয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। “এছাড়া, শহীদ পরিবারবর্গ যখন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কমিশন এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার আশ^াস প্রদান করে।” বৈঠকে কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া ও জাতীয় ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। জুলাই শহীদ পরিবারের যে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে সেখানে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা), মীর মোস্তাফিজুর রহমান (শহীদ মুগ্ধর বাবা), মো. মহিউদ্দীন (শহীদ ইয়ামিনের বাবা), কবির হোসেন (শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা), মোহাম্মদ আবদুল মতিন (শহীদ শাহরিয়ারের বাবা), মো. গোলাম রাজ্জাক (শহীদ রিয়ানের বাবা), মো. গাউছ উল্লাহ (শহীদ আব্দুল্লাহর ভাই), সাইফ আহমেদ খান (শহীদ আব্দুল হান্নানের ছেলে), মো. ওবায়দুল হক, সৈয়দ গাজীউর রহমান (শহীদ মোন্তাসিরের বাবা) উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ ও অঙ্গীকারনামা সম্বলিত জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে গেল ১৭ অক্টোবর। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি দল ও জোট জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে। পরে স্বাক্ষর করে গণফোরাম। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির ছাত্রনেতাদের নিয়ে গড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও বাম ধারার চার দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ ও বাসদ-মার্কসবাদী সংলাপে থাকলেও তারা জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। সনদেও স্বাক্ষর করেনি। ঐতিহাসিক এ দলিলটি স্বাক্ষর হলেও এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং গণভোট প্রশ্নে দলগুলোর মতভিন্নতা রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারকে সুপারিশ দেওয়ার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বিশেষজ্ঞদের বৈঠক করছে। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, শিগগিরই তারা সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে।



