ট্রাইব্যুনালকে ‘ক্যাঙ্গারু’ মনে করি না: রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

প্রবাহ রিপোর্ট : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত বর্তমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে যারা ‘ক্যাঙ্গারু’ বলেন- এটা তাদের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাইবুনালের বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়ে জানতে চাইলে আমির হোসেন বলেন, যারা ক্যাঙ্গারু বলেন, এটা তাদের ব্যাপার। তবে আমি মনে করি না, অস্বচ্ছতার কোনো কিছু আছে। কারণ এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কোনো পক্ষ আমাকে কোনোভাবে চাপ দেয়নি। কেউ বলেননি যে, এটা বলবেন না, এটা করবেন না। এভাবে কখনোই কেউ কিছু করেননি। অতএব, এই কোর্ট ক্যাঙ্গারু কিনা, এই প্রশ্নের আমি জবাব দেবো না। আমি মনে করি না যে- এই কোর্ট কোনো ক্যাঙ্গারু। কারণ আমাকে কেউ কোনো বাধার সৃষ্টি করেনি। তিনি বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালে কিছু বক্তব্য (শুনানি) দিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই বক্তব্যটি বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে আমি নিন্দা জানাই। ট্রাইব্যুনাল আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আপনি যে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন- আপনার আসামি খালাস পাবেন। এটা আপনি কিভাবে বললেন? সে প্রসঙ্গে কোর্টকে বলেছি, সাংবাদিকরা যখন আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনার আসামির প্রত্যাশা কী। সেক্ষেত্রে আমি এ কথা বলেছি, এটা আমার পেশাগত দায়িত্ব। আমির হোসেন আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালে আরেকটা কথা বলেছি যে, আমি যদি বলি- আমার আসামি খালাস পাবেন না, সেটা কি সঠিক হবে? সেটা কি বলতে পারি? এটা বললে ট্রাইব্যুনাল আমাকে যে নিয়োগ দিয়েছেন- তাহলে দেশের মানুষ মনে করবে, এমন আইনজীবী দিলাম, যিনি আসামির ফাঁসি বা সাজা হবে বলছেন। সেই প্রসঙ্গে দু-একটা কথা নিয়ে মৃদু হাসাহাসি হয়েছে। কিন্তু তা বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিছু ইউটিউবে। এক শ্রেণির অসাধু ইউটিউবাররা বিভিন্নভাবে বিকৃত করেছে। তাই ভবিষ্যতে এমন কোনো কথা না লেখার জন্য অনুরোধ করেন এই আইনজীবী। প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় চলা সরাসরি সম্প্রচার থেকে কেটে নেওয়া একটি ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি জানান আমির হোসেন। বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বেশ কয়েকটি মামলায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে লড়ছেন তিনি।



