বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সীমান্তে ভারতের নতুন সেনা ঘাঁটি স্থাপন

কুড়িগ্রাম সীমান্তে সেনা স্টেশন
ভারত সীমান্ত দিয়ে জাল টাকা প্রবেশ রোধে সর্তক বিজিবি
প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত শিলিগুড়ি করিডরে ভারত নতুন তিনটি সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছে। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আসামের বামুনি (ধুবরির কাছে),বিহার বাংলা সীমান্তের কৃষাণগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া এলাকায় নতুন ঘাঁটিগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন চোপড়া ঘাঁটি পরিদর্শন করেন।
পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল তিওয়ারি সেখানে মোতায়েনকৃত সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘাঁটি স্থাপন ও চালু করার জন্য তাদের অটল উদ্যম ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি সেনাদের সর্বোচ্চ কার্যকরী প্রস্তুতি বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় থাকারও নির্দেশ দেন।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, গ্যাপগুলোর নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা উন্নত করার জন্য এই ঘাঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছে। এই করিডর ভারতের মূল ভূখ-কে উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করে, যা ‘চিকেন নেক’ করিডর নামেও পরিচিত।
চিকেন নেককে ভারত তাদের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ, যদি এই করিডর হারিয়ে যায়, তবে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের সঙ্গে স্থল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভারতের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, চিকেন নেক করিডর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক করিডর, যেখানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে খুব দ্রুত সময়ে সেনা মোতায়েন করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব সেনাকে খুব দ্রুত এখানে জড়ো করা সম্ভব।
পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল শাহির শামসেদ মির্জার সাম্প্রতিক ঢাকা সফর এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারত এই করিডরের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, ‘লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি, আর্মি কমান্ডার ইস্টার্ন কমান্ড, চোপড়া ডিফেন্স ল্যান্ডে ব্রহ্মাস্ত্র কর্পসের মোতায়েন সৈন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
ইস্টার্ন কমান্ডের পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আর্মি কমান্ডার স্থানীয় এমএলএ হামিদুল রহমানসহ নাগরিক নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি সেনা-বেসামরিক সহযোগিতা জোরদার করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’
এর আগে লেফটেন্যান্ট জেনারেল তিওয়ারি আসামের সীমান্ত এলাকায় ৪ (গজরাজ) কর্পস সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং ধুবরির বামুনিগাঁও এলাকায় লাচিত বরফুকন সামরিক স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
‘নতুন এই সামরিক স্টেশন প্রতিষ্ঠা অঞ্চলটির সেনা সক্ষমতা ও অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলেও সংস্থাটি জানায়।
সূত্র: ডেকান ক্রনিকেলের প্রতিবেদন
জাল টাকা প্রবেশ রোধে বিজিবির বাড়তি সর্তকতা :
এদিকে, ভারত সীমান্ত দিয়ে জাল টাকার নোট দেশে প্রবেশ রোধে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিজিবি। সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিজিবি বাড়তি টহল দিচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য। সেই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী বলেন, সীমান্ত দিয়ে জাল টাকার নোট দেশে প্রবেশ সংক্রান্ত একটি বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। এরপর থেকেই আমরা বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি সতর্ক রয়েছি। এটি প্রতিরোধে আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের পোস্ট বা অন্য কোনো জায়গা দিয়ে যদি জাল টাকা আসা-যাওয়া করে, সেটি আমরা প্রতিরোধ করবো। এ বিষয়ে আমাদের পোস্টগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।



