মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি: তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ রিমান্ডে

এফএনএস: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জার ও বিভিন্ন আইডি দিয়ে কমেন্টে ধর্ম অবমাননার দায়ে বনানী থানার মামলায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজস্ট্রেট এস এম সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গুলজার হোসাইন তার রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। পরে আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার বাদী তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বিরসহ কয়েকজন গত মাসের ২৬ তারিখ বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে বনানী থানায় সোপর্দ করেন। পরদিন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এ মামলায় চলতি মাসের ১ তারিখ রিমান্ড আবেদন করেন বনানী থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন গতকাল সোমবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ২৬ নভেম্বর ক্যাম্পাস থেকে বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। মামলা দায়েরের পর ২৭ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন,‘গত ৬ মাসে দেশে যত ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটেছে, ১৫ বছরেও তা ঘটেনি। এর কারণ একটাই ফ্যাসিজম ফিরিয়ে আনা। দেশে দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আবার আন্দোলনের মাধ্যমে রাস্তায় নামানো। এর ইন্ধন দিচ্ছে ‘র’। তারা ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টে করছে। কে ঘটনা ঘটিয়েছে, কলকাঠি কে নাড়ছে, তা জানার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনের পক্ষে তার আইনজীবী গুলজার হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, এ মামলার বাদীর সঙ্গে একটা মেয়েকে নিয়ে বিশ্বজিতের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি। মামলার বিবরণ থেকে জান যায়, বিশ্বজিৎ ফারিয়া আক্তার নামে একটি ফেসবুক আইডি খোলে। সেখানে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করে। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বির ২২ নভেম্বর ক্যাম্পাসে বসে মহানবী কটূক্তির বিষয়টি দেখে। শাহ মোহাম্মদ নামক ফেসবুক আইডির সঙ্গে চ্যাটিংকালেও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করে। পরে কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আইডির মালিককে খুঁজতে থাকে। আফিফ নামে তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীর ম্যাসেঞ্জার থেকে ফারিয়া আক্তার আইডিতে ভিডিও কল দিলে বিশ্বজিৎ রিসিভ করে। ২৬ নভেম্বর তাকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বির ২৬ নভেম্বর বনানী থানায় মামলা করেন।



