জাতীয় সংবাদ

পাবলিক প্লেসে ১০ বছরের মধ্যে বিনামূল্যে পানির ব্যবস্থার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রবাহ রিপোর্ট : নিরাপদ পানিকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করে এক বছরের মধ্যে দেশের পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১০ বছরের মধ্যে বিনামূল্যে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ এবং অন্য ক্ষেত্রে পানযোগ্য পানি সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের দেওয়া এই রায়ের ১৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। রায়ে দেশের প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেস অর্থাৎ রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাট-বাজার, শপিংমল, সরকারি হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লবণাক্ত উপকূলীয় এলাকা, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা, সকল আদালত ও আইনজীবী সমিতিসহ উল্লেখযোগ্য পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানযোগ্য পানি প্রত্যক নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। রায়ে আদালত বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার এবং এই পানির অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এছাড়া নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আদালত বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো হলো- বাংলাদেশের যত পানির উৎস রয়েছে এই পানির উৎস যাতে ক্ষয়িষ্ণু না হয় অর্থাৎ পানি শুকিয়ে না যায়, পানি অনিরাপদ না হয়, পানি দূষিত না হয় সেগুলোকে সংরক্ষিত করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে সমস্ত পাবলিক প্লেসে নিরাপদ, বিনামূল্যে সরবরাহে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেই মর্মে একটি রিপোর্ট সরকারকে আদালতে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ ব্যবহারযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে ২০২০ সালে সুয়মোটো রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি না, অথবা এই নিরাপদ পানি পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না তা জানতে চেয়েছিলেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। আদালত মামলাটি চলমান রেখেছেন। এর আগে এ মামলার শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button