জাতীয় সংবাদ

রিটার্নে ৯ লাখ টাকার জায়গায় ভুলে ২৮ লাখ লেখা হয়েছে : সারজিস

প্রবাহ রিপোর্ট : পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছিল, যা পরে সংশোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এনসিপির পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা হওয়ায় পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, আমার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় যে হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছি, সেখানে আমার আইনজীবীর টাইপিংয়ে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। সেখানে ৯ লাখ টাকার জায়গায় ভুলক্রমে ২৮ লাখ টাকা লেখা হয়েছে। বিষয়টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা সবার সামনেই তুলেছিলেন। সেখানে অন্য দলের প্রার্থীসহ অনেকেই ছিলেন। কারও কোনো আপত্তি ছিল না এবং আইনগতভাবে আমাদের সংশোধন করে দেওয়ার সুযোগ ছিল। এমনকি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল, যা আমরা গতকাল বুধবার সংশোধন করে সাপ্লিমেন্টারি কাগজপত্র জমা দিয়েছি। গত মঙ্গলবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়টি আমার চোখে পড়েছিল উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, প্রথমে এটি ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে এসেছিল। সেখানে বলা হয়েছে যে, আমার আয়কর রিটার্ন ও হলফনামার তথ্যের মধ্যে গরমিল রয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক যে ডেইলি স্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়া, যারা এই আইনের বিষয়ে অভিজ্ঞ বা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাদের কাছ থেকে বিষয়গুলো ঠিকমতো জিজ্ঞাসা না করেই এমনভাবে ফ্রেমিং করা হয়েছে, যেন এখানে কত টাকা অসৎ পথে উপার্জন করা হয়েছে। কত টাকা দেখিয়েছি, এটার মনে হয় হিসাব মেলাতে পারিনি। তো এটার মধ্যে ফ্রেমিংটা এমন হয়েছে যে এখানে সম্ভবত একটা দুর্নীতি কিংবা অনৈতিকভাবে আর্থিক উপার্জন, এ ধরনের একটা চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে আমার জায়গা থেকে মনে হয়েছে যে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন প্রার্থীকে হয়রানি করা। তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু অ্যাকটিভিস্ট রয়েছে, যারা হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হিসেবে কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, দেশ বা এজেন্সির এজেন্ট হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রোপাগান্ডা করছে। এখানে রাজনৈতিক দল হিসেবে হেয়প্রতিপন্ন করা, প্রার্থী হিসেবে জনগণের সামনে বিতর্কিত করা কিংবা জুলাই অভ্যুত্থানে যারা বিভিন্ন সময় নেতৃত্বে ছিলেন, তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। সারজিস আলম আরও বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলছি, দেশে যত এজেন্সি আছে যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে, তাদের মাধ্যমে হোক আর যেভাবেই হোক, আপনারা আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করেন। গত এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে যদি বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেন, আমার বিরুদ্ধে যা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আমি তা-ই মেনে নেবো। সেইসঙ্গে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপির বিরুদ্ধে তার নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, এখনই যদি তারা এ রকম পেশিশক্তির দাপট আর কালোটাকার প্রভাব দেখায়, তাহলে এভাবে চলতে থাকলে মনে হয় না নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা এটা এখন মিডিয়ায় বলছি। এরপর আমরা জিডি করবো, প্রয়োজনে মামলা করবো। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ করবো।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button