জাতীয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রেসক্রিপশন জুলাই সনদ: মনির হায়দার

প্রবাহ রিপোর্ট : ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর প্রেসক্রিপশন হচ্ছে জুলাই সনদ, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত একটি গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। মনির হায়দার বলেন, এবারের গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী না হয়, হবে না, আমি বলছি যদি না হয়, তাহলে একদম নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবেই, কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ গণভোটের আয়োজনই করা হয়েছে ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর জন্য। তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ হঠাৎ কারো মাথা থেকে এসেছে, আর তিনি বললেন সবাই এটা স্বাক্ষর করেন, সব রাজনৈতিক দলগুলো সুরসুর করে স্বাক্ষর করে দিল ব্যাপারটা এমন ছিল না। এটা তৈরি করা হয়েছে একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে। তিনি আরও বলেন, জাতির পক্ষে সরকার, রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আলোচনা গবেষণা করে, শলা-পরামর্শ করে এটা তৈরি করেছে। জুলাই সনদ করা হয়েছে প্রধানত গত ১৬ বছর, সামগ্রিকভাবে ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে, আমরা কোন কোন জায়গায় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকাতে পারি। সহজ ভাষায় বলতে গেলে ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর প্রেসক্রিপশন এটা (জুলাই সনদ)। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদকে যদি আমরা অনুমোদন করে জাতীয় জীবনে বাস্তবায়ন না ঘটাতে পারি তাহলে নিশ্চিতভাবে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে এবং আমরাই সেটা নিয়ে আসব। অন্য কেউ নয় জাতি হিসেবে আমরাই দায়ী থাকবো। মনির হায়দার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ, সংস্কারের উদ্যোগ, গণভোটকে ঘিরে নেগেটিভ ক্যাম্পেইন, অপপ্রচার, মানুষকে বিভ্রান্ত করার নানা তৎপরতা, অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে বিদ্যমান। যেই ফ্যাসিবাদীকে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করেছে কিন্তু তাদের ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাদের অন্তত দুটো মহাক্ষমতা আছে। তাদের কাছে লুটপাটের অঢেল টাকা আছে, আরেকটা হলো দেশি এবং বিদেশি কায়েমি স্বার্থবাদী চক্র তাদেরকে নিরন্তর মদদ দিয়ে যাচ্ছে। এ দুটো শক্তির বলে সেই পরাজিত শক্তি বাংলাদেশের মানুষের স্থায়ী মুক্তির সনদ বাস্তবায়িত না হয়, এর জন্য যত রকমের ষড়যন্ত্র করার তার সব কিছুই তারা করছে। বিচারপতি এম এ মতিনের সভাপতিত্বে গোল টেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button