এএসপির বিরুদ্ধে বাসচালককে পেটানোর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

প্রবাহ রিপোর্ট : নওগাঁয় সহকারী পুলিশ সুপার কর্তৃক বাসচালককে অফিসে ডেকে পেটানোর অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। গতকাল বুধবার দুপুরে ‘পুলিশ মিডিয়া গ্রুপ’ নামে গণমাধ্যম কর্মীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এ সংক্রান্ত বিবৃতি দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ৪ জানুয়ারি নওগাঁ জেলার সাপাহার সার্কেলের এএসপি এবং একজন বাস চালকের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংগঠিত হয় মর্মে বিভিন্ন মিডিয়ায় গত ৬ তারিখ খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরেই এ সংক্রান্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ক্রাইম) নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি হিমাচল নামে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী একটি বাস সকাল সাড়ে ৯টায় নওগাঁর সাপাহার থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই বাসের চালক ও হেলপারের অভিযোগ, সেদিন ওই বাসে যাত্রী হয়ে ওঠেন সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মন। তবে তিনি কোনো টিকিট না কেটেই বাসে উঠেছিলেন ধানসুরা নামক স্থানে নেমে যাবেন বলে। বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে জয়ন্ত বর্মন যে সিটে বসেছিলেন ওই সিটের যাত্রী বাসে উঠেন। এ সময় সিটটি ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে জয়ন্ত বর্মন জানান, তিনি সার্কেল এসপির স্বামী। সুপারভাইজারকে বিভিন্ন কথা বলে হুমকি দিতে শুরু করেন জয়ন্ত। একপর্যায়ে সিট ছেড়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যান জয়ন্ত। চালকের সঙ্গে চলে তুমুল বাগবিত-া। এরপর নির্ধারিত গন্তব্য ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে নেমে যান। তারা জানান, এরপর ওইদিন রাত ১০টায় ‘হিমাচল’ পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেন শ্যামলী রানী বর্মন। সেখানে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রী মিলে বেধড়ক পিটুনি শুরু করে চালক বাদলকে।



