ঢাবির আওয়ামীপন্থি ৪ শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে শোকজ

প্রবাহ রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামীপন্থি চার শিক্ষককে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে শোকজ নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। অভিযুক্ত চার শিক্ষক হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্ত চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর সিন্ডিকেট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, আন্দোলন দমনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা এবং বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকা-ের অভিযোগে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিন্ডিকেট সিনেটের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাইফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) লিখিত অনুরোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সভার সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী স্থাপনার নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার সিন্ডিকেটের নেই। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের সভায়। সে কারণে বিষয়টি সিনেটের সভায় পাঠানো হবে এবং সেখানেই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ঢাবির পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে দুটি আবাসিক হল; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। এছাড়া, একটি হোস্টেল ও দুটি স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে। এগুলো হলো শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং সুলতানা কামাল হোস্টেল। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদী হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।



