ভারতের সামনে মাথানত করা জালেম বিএনপিকেও পালাতে হবে: রাশেদ প্রধান

প্রবাহ রিপোর্ট : জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, যেই দলের নেতা নিজের মাতৃভূমিতে পা রাখবে সেটার সিদ্ধান্ত একা নিতে পারেন না, সেই নেতার নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে শান্তিতে থাকবে- এটা বাংলাদেশের কোনো পাগলও বিশ্বাস করে না। হাসিনা যেভাবে পালিয়েছে, একইভাবে ভারতের সামনে মাথানত করা নতুন জালেম বিএনপিকেও পালাতে হবে। তিনি বলেন, ওনারা বলতে চায় ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বা আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা বলতে চাই, সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী মহান রাব্বুল আলামিন, কোনো মানুষ নয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাগপা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলার পর সেই প্ল্যান কী সেটাকেও তারা গুপ্ত রাখবেন। দেশে আসার জন্য কোথায় মুচলেকা দিতে হয় বা কার অনুমতি নিয়ে দেশে পা রাখতে হয়, সেটাও তারা গোপন এবং গুপ্ত রাখবেন। তারা যদি ফ্যামিলি কার্ডের নাম দিয়ে মনে করেন ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে তাদের জয় জয়কার হবে, তাহলে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- এমন স্বপ্ন দেখলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যেভাবে পালিয়েছে, একইভাবে ভারতের সামনে মাথানত করা নতুন জালেম বিএনপিকেও পালাতে হবে। রাশেদ প্রধান বলেন, বিগত কিছুদিনের মধ্যে আমরা পাঁচটা ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্বচক্ষে দেখেছি। পাঁচটা নির্বাচনের ফলাফল যেভাবে এসেছে, তারপর বড় দল বিএনপির নেতারা বলতে চায়, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব নাকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়বে না। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতাদেরকে বলতে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর তাদের বলতে হবে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল আগামী ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পড়বে না। নির্বাচনের পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। তবু, আমরা হতাশ নই। কারণ হচ্ছে ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন ছাত্র জনতা, শ্রমিক সম্প্রদায় এখন সচেতন। আমরা এমন একটি প্রজন্ম পেয়েছি যেই প্রজন্মে হাদির মতো সন্তানরা জন্ম নেয়, যারা মাথা উঁচু করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। অতএব, আমাদের হারানোর কিছু নেই, আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে মন্তব্য করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, কাদের সঙ্গে মাসোহারা করে তিনি (তারেক রহমান) দেশে এসেছেন—তা নিয়ে মানুষ এখন প্রশ্ন করছে। জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মতো রাজনৈতিক দল দিয়ে কিভাবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব? আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, তারেক রহমান বলেছিলেন দেশে আসা তার একক সিদ্ধান্তের ওপর ওপর নির্ভর করে না। তাহলে কার ওপর নির্ভর করে? তার দেশে আসা তো কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করে না। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকে তারা থোড়াই কেয়ার করে। শিবির সভাপতি বলেন, আমরা দেখেছি একটা দলের অন্তর্কোন্দলের মধ্য দিয়ে ২০০-র বেশি মানুষকে তারা পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সেগুলোর বিচার হয় না। বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকা-ের কারণে আজকে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মানুষ বড় অস্বস্তির মধ্যে আছে। চাঁদাবাজির এক মহা উৎসবে পরিণত হয়েছে দেশ। তারেক রহমানের প্রোটোকল নিয়ে সাদ্দাম বলেন, একটা দলকে সন্তুষ্ট করা ছাড়া আর কোনো চিন্তাভাবনা সরকারের মধ্যে নেই। একটা দলের প্রধান দেশে আসছে, চারদিক থেকে প্রটোকল। হায় প্রটোকল! প্রধানমন্ত্রীরাও এমন প্রটোকল পায় না। চার হাজার সেনাসদস্য নেমে গিয়েছে। একটা দলের প্রধানকে সেনাবাহিনীর প্রটোকল দিচ্ছে হচ্ছে, কীসের এত ভয়? মানুষ এখন উন্মুখ হয়ে আছে একটা বড় পরিবর্তনের জন্য—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করার ক্ষেত্রে তারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়। আমরা বলছি, জুলাইকে আইনি ভিত্তি দিতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে। সেটি হলে বাংলাদেশে আর দৈত্যদানব তৈরি হবে না। সংবিধান সংস্কার হবে। সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন হবে। সুতরাং ইচ্ছামত কেউ সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে পারবে না। জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, শ্রমিক জাগপার সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবুল, ঢাকা মহানগর জাগপার সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম হাসু, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম মারজান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ সভাপতি আমীর জিহাদী, খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবু দারদা সুজন, জুলাই ফোর্স আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি লামিয়া ইসলাম, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সদস্য সচিব তানভির ইসলাম স্বাধীন, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাকিল হাসানাত, জাগপা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ লুৎফর রহমান, সহ-সভাপতি আশফাকুর রহমান মিঠুন, সংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন মো. জামাল আকন, দপ্তর সম্পাদক এস কে আরিয়ান শরীফ প্রমুখ।



