জাতীয় সংবাদ

তেঁতুলিয়ায় ৬.৯ ডিগ্রি, শীতে কাবু উত্তরাঞ্চল

প্রবাহ রিপোর্ট : রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সেই সঙ্গে চলতি শীত মৌসুমের মধ্যে গতকাল শুক্রবার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এখানে তাপমাত্রা নেমেছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সূর্যেরও তেমন দেখা মিলছে না। ৫ দিন পর সূর্যের মুখ দেখা গেলেও কোনও তাপ নেই এবং ২ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহে আরও দুটি মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে বলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে। এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, সর্দি জ্বর, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭ বয়স্ক নারী-পুরুষ ও ৮ জন শিশুসহ ১৫ জন শীতজনিত নানান রোগে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সরদার অফিসের মমতাজ উদ্দিন। অপরদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, হাসপাতালে শিশু বিভাগের ৩টি ওয়ার্ডসহ মেডিসিন ওয়ার্ডে ৪ গুণ রোগী ভর্তি আছে, ফলে হাসপাতালের ওয়ার্ডের বাইরে ভেতরে ফ্লোরে কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেুঁতুলিয়ায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে নীলফামারীর ডিমলায় ৯ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি, রংপুরে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও গাইবান্ধায় ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তা স্থায়ী থাকছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। বেশির ভাগ জেলায় মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সারাদিনেই রংপুর বিভাগে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হবার কারণে শীতের তীব্রতা মারাত্মক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে এবার আগাম শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সহায় সম্বল হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষদের জন্য শীত বস্ত্র ও শিশুদের গরম কাপড় দেওয়ার বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে রংপুর ত্রাণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। রংপুর বিভাগীয় প্রশাসকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীত বস্ত্র বরাদ্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় এখনও সেভাবে বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ মিলেছে অনেক কম। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে সহায় সম্বল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ তেমনভাবে করছে না বলে জানা গেছে। শীত বস্ত্রের অভাবে সহায় সম্বল মানুষ খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ভাইরাস জ্বর, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া সর্দি জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে। এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনির হোসেন জানান, শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। তিনি শিশুদের সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত গরম পোশাক পরিয়ে রাখা, ঠা-া যেন না লাগে সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button