জাতীয় সংবাদ

শহীদদের ত্যাগের কারণেই আমরা প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক: শিক্ষা উপদেষ্টা

প্রবাহ রিপোর্ট : শহীদদের ত্যাগের কারণেই আজ আমরা অধিকার বঞ্চিত প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি বলে জানিয়েছেন ড. সি আর আবরার। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শহীদদের ত্যাগের কারণেই আজ আমরা অধিকার বঞ্চিত প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি। জুলাই-শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. সি আর আবরার বলেন, ডিগ্রি আমাদের সুযোগ দেয়, কিন্তু শিক্ষা আমাদের দায়িত্ববোধ শেখায়। আজকের অর্জন নিয়ে তোমরা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কী করবে— এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনটি তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ব্যক্তিগত পরিসর থেকে গণপরিসরে প্রবেশের এই মুহূর্তে কর্মজীবনে যে সিদ্ধান্তগুলো তারা নেবে, সেগুলো যেন কেবল ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি আরও বলেন, ন্যায়নীতি, প্রতিষ্ঠান, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, ঐতিহ্য এগুলোকে ধারণ করতে হবে। ব্যক্তি অর্জন দিয়ে জীবনের অর্জনকে মাপা যায় না বরং বৃহত্তর সমাজকে কী দিচ্ছি, সেটাই হতে হবে সফলতার মাপকাঠি। প্রযুক্তির অগ্রগতির প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির দাস না হয়ে মানুষকেই প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ে বিবেক, যুক্তি ও বিচার-বিশ্লেষণের সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা উপদেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের মতো বৈশ্বিক ও জাতীয় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করেন এবং তরুণদের এসব সংকট মোকাবিলায় সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অনিশ্চয়তাকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। নাগরিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া— এই দায়িত্বগুলো পালনে তরুণদের সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। ব্যক্তি সাফল্যের চেয়েও বৃহত্তর সমাজে কী অবদান রাখা যাচ্ছে, সেটাই জীবনের প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি বলে তিনি মন্তব্য করেন। অভিভাবকদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সন্তানদের শিক্ষার পেছনে তাদের যে ত্যাগ ও বিনিয়োগ রয়েছে— তা যেন নৈতিক, যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার মাধ্যমে সার্থক হয়। শিক্ষকদের ধৈর্য, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই রাষ্ট্র ও সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। এই সময়টাই প্রতিজ্ঞা নেওয়ার সময়-আমরা ন্যায়নীতি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবো। ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন তোমাদের হাতেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button