নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচনের দাবি ছাত্রশিবিরের

প্রবাহ রিপোর্ট : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন যথাসময়ে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল সোমবার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী ২০ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি ‘শাকসু’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি প্যানেল ও প্রার্থীরা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসন যখন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে; ঠিক তখনই একটি মহল পেশিশক্তির মাধ্যমে এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পাঁয়তারা করছে। নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সে লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ও কার্যকর ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা। ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। ক্যাম্পাসে গতানুগতিক ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক ধারা সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বমূলক ও কল্যাণমুখী নেতৃত্ব বিকাশে ছাত্র সংসদ এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি দেশের ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র সংসদের ইতিবাচক ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকার ফলে ওই ক্যাম্পাসগুলোতে আবাসন সংকট নিরসন, পরিবহন সমস্যার সমাধান, মাদক ও বহিরাগত মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য হলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভিত্তিক কাজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা, লাইব্রেরির পাঠ-পরিবেশকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মেধা বিকাশে নানাবিধ ছাত্রকল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ইতোপূর্বে বাংলাদেশে যতগুলো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সেখানে এমন গঠনমূলক কার্যক্রম দেখা যায়নি। এসব ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখে প্রতিটি ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ছাত্র সংসদের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল (গত রোববার) থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন বন্ধের দাবিতে ইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। অন্যদিকে এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গতকাল সোমবার নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক দাবিকে উপেক্ষা করে নিজেদের সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ ও লেজুড়বৃত্তির উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই তারা এই জনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এটি শুধু শাবিপ্রবি নয়; বরং সারাদেশের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের মূলে কুঠারাঘাতের শামিল। নূরুল ইসলাম বলেন, একদিকে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পদক্ষেপে বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে আধিপত্যবাদী ও পেশিশক্তি নির্ভর ছাত্ররাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব হত্যাকা- থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসগুলোতে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাজনীতির কারণে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আজ প্রত্যাখ্যাত। নিজেদের পরাজয় ও গ্লানি থেকে শিক্ষা না নিয়ে তারা এখন পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ছাত্র শিবির সভাপতি বলেন, শাকসু নির্বাচন বানচালের এই নীলনকশা নতুন কিছু নয়। নানা নাটকীয়তা ও ৩ দফায় তফসিল পিছিয়ে সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সব পক্ষ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ‘শাকসু’ নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে ছাত্রশিবির কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।



