ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টা অভিযোগ

প্রবাহ রিপোর্ট : রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রতীক বরাদ্দের সময় এ অভিযোগ করেন তারা। বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আচরণবিধি মেনেই এখানে এসেছি। দুঃখজনক হলো একটি বিশেষ দল আচরণবিধি মানেনি। আমরা পাঁচজন এসেছি, তারা (জামায়াতের প্রতিনিধি) ১০ জনের বেশি লোক এখানে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একটি দল নারীদের বাসায় বাসায় পাঠিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, নারীকর্মীরা এনআইডি আর বিকাশ নাম্বার চাইছিল। এগুলো ব্যক্তিগত তথ্য। বাইরের কাউকে হস্তান্তরযোগ্য নয়। নারী কর্মীদের এসব জিজ্ঞাসা করলে তারা ছোটোছুটি শুরু করেন। পরে তাদের নেতারা ২০ থেকে ২৫ জন নিয়ে এসে প্রশ্নকর্তাকে নাজেহাল করেন। পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়াতেও এমন ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষরা জিজ্ঞাসা করলে জামায়াতের সংঘবদ্ধ কর্মীরা বিএনপির দুইজন কর্মীকে মারধর করেন। সেখানে পরে হৈ হল্লা সৃষ্টি হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ, সেনাবাহিনীতে ফোন দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনুরোধ করি। ইসিকে অনুরোধ সবাই যেন নির্ভয়ে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে। জামায়াত আমিরের পক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রতীক বরাদ্দ নেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ একটি প্রতিনিধিদল। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আশা করছি আগামী নির্বাচনে প্রার্থীরা সবাই অংশ নেবেন, গণভোট ‘হ্যা’ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবে। সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাবো। যদিও আমাদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। গতকালও (গত মঙ্গলবার) করেছে। আশা করবো এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন আশা করি। যেহেতু গত তিনটি নির্বাচন হয়নি তাই ইসিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের দিয়ে আগাম প্রচারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা পুরোপুরি অসত্য তথ্য। তফসিল ঘোষণার পর সব প্রচারণা সামগ্রী আমরা অপসারণ করেছি, ইসির অপেক্ষা করিনি। অপপ্রচার চালিয়ে ১০ দলীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণ হচ্ছে। ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দল থেকে আমাদের নারী ভোটারদের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্বিতীয়বার যেন এমনটা না ঘটে। এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনূচ আলী প্রার্থীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো কর্মীও যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তার দায় প্রার্থীর ওপর বর্তাবে। তাই সবাকে সতর্ক থেকে ভোটের প্রচার চালাতে হবে।



