পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবলো বাংলাদেশি জাহাজ

প্রবাহ রিপোর্টঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মুড়িগঙ্গা নদীতে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় বাংলাদেশি পণ্যবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের সাগর এলাকায়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাহাজের ১২ নাবিক। জানা গেছে, জাহাজটি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বজবজ থেকে ছাই বোঝাই করে বাংলাদেশে রওনা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাকদ্বীপ ও লট নম্বর ৮-এর মধ্যবর্তী মুড়িগঙ্গা নদীর চরা অতিক্রম করার সময় ভাটার টানে নদীগর্ভে জেগে ওঠা একটি বিশাল চরায় জাহাজটি আচমকা সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় জাহাজের তলদেশ ফেটে যায়। মুহূর্তে জাহাজের ভিতরে দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করে। জাহাজটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং ডুবতে শুরু করে। বিপদের আঁচ পেয়ে নাবিকরা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। মুড়িগঙ্গায় চলাচলরত একাধিক ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। ট্রলারগুলির নাবিকরা তৎপরতার সঙ্গে জাহাজে থাকা প্রায় ১২ নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আপাতত জাহাজটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।এই বিষয়ে সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, “বুধবার বিকেলে কলকাতা বন্দর থেকে একটি পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশের যাওয়ার সময় ঘোড়ামারা দ্বীপ ও কচুবেড়িয়া মধ্যবর্তী স্থানে হঠাৎই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ডুবে যায়। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ওই পণ্যবাহী জাহাজে থাকা ১২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে। বর্তমানে সকলেই সুস্থ রয়েছে।”উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। এখন তারা গঙ্গাসাগর থানার অন্তর্গত বহুমুখী আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন৷ তাদের শুকনো খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে৷ খুব শীঘ্রই তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷ ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে কী ধরনের পণ্য বহন করছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নদীতে কোনও ধরনের তেল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে প্রশাসন।



