দেশের ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে : ডা. শফিকুর রহমান

বেকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই
প্রবাহ রিপোর্ট : ১০ দলের জোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ১০ দলের জোটকে আপনারা ভোট দিন। আমাদের পার্লামেন্টে পাঠান যাতে সরকার গঠন করতে পারি। আমরা কথা দিচ্ছি, শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষেরও জীবনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, ইনশাল্লাহ।’
বাংলাদেশের মূল চারটি নদীকে খুন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব নদীর কি কোনো মা-বাবা ছিল না। তাহলে আমাদের নদী মারা গেল কেন। ওরা প্রতি পাঁচ বছরে একবার আসে, বাকি সাড়ে চার বছর ওদের হারিকেন জ্বালিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিলের মতো বসন্তকালে আইসা কুহু কুহু ডাক শুরু করে।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হুসাইনের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ১০ দলীয় জোটের পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম, পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমসহ ১০ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে চাই, এই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর যথেষ্ট হবে। আমরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, তাহলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে, ইনশাল্লাহ। এই এলাকার মাটি উর্বর। এই এলাকা পিছিয়ে থাকার কোনো প্রশ্নই উঠে না। ষড়যন্ত্র করে, বঞ্চিত করে, পেছনে রাখা হয়েছে।’
শুধু পঞ্চগড়ে নয়, ‘বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চুরি করে যে লক্ষ-কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, ওগুলো ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকাইয়া আমরা বের করে আনব ইনশাল্লাহ। আগামীতে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না। আমি বিশ্বাস করি, আজকের জনসভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন, ২৪ এর জুলাই যোদ্ধা, ৭১ এর বীররা রয়েছেন। আমরা আপনাদের সকলের কাছে ঋণী। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের সন্মান করবো। দেশ সেবার সুযোগ পেলে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে, আপনাদের ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।’
বক্তব্য শেষ করার আগে পঞ্চগড়-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন শফিকুর রহমান।
অপরদিকে, পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামীতে একটি বেকার মুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’ চিনিকল মাঠে দশ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা জনসভায় আজ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য হন্য হয়ে দৌঁড়াতে হয় রাজধানীর দিকে। এ সামর্থ্য সকলের নেই, যাওয়ার পথে রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এ অবস্থা আমরা দেখতে চাই না। আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিলে ৬৪ জেলার কোথাও মেডিকেল কলেজ বিহীন থাকবে না। বলবেন- এত টাকা কোথায় পাবেন? ওই যে চুরি করে আমাদের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশ নিয়ে গেছেন, ওগুলো ওদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।’
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গকে গরিব করে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মত উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ, উত্তরবঙ্গ আমাদের খাদ্য এবং পুষ্টি সরবরাহ করে। সেই উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে ইচ্ছা করে। উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা আগামীতে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনতে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালবাসা দিয়ে আগামীতে একটি বেকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। কারো দয়ায় বাংলাদেশের কোনো এলাকায় মানুষ বসবাস করবে তা আমরা দেখতে চাই না। মানুষ আওয়াজ দেয় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। কিন্তু টেকনাফের উন্নয়নের জোয়ার আর আসতে পারেনা তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টিয়ে দিব, বলব- তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।
তিনি বলেন, আল্লাহর নেয়ামত ৪টি নদী আল্লাহ এই উত্তরবঙ্গকে দান করেছেন- তিস্তা, ধরলা ব্রহ্মপুত্র এবং করতোয়া। আজকে আসার সময় দেখলাম- নদী নয়, মরুভূমি। মরে কঙ্কাল হয়ে আছে নদীগুলো। আল্লাহর দান নদীগুলোকে খুন করা হয়েছে। এই দেশের কি কোনো মা-বাবা ছিল না? তাহলে আমার নদী মরে গেল কেন? ওরা জনগণের প্রতি পাঁচ বছরে একবার দরদের হান্ডিতে জ্বাল দেয়, আর এটা উতলায়া উঠে। বাকী সাড়ে ৪ বছর হারিকেন জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিল, বসন্তকাল আসলে আইসা বলে কুহু কুহু। মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নাই। আমরা এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব। দেশবাসীকে ফেলে চরম বিপদের সময়ও কোথাও আমরা যাইনি, আগামীতেও প্রিয় দেশবাসীকে ফেলে আমরা যাব না। জীবনে মরনে একসঙ্গে লড়াই করব। বাংলাদেশকে গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, জুলাই যোদ্ধা একাত্তরের বীররা আমরা আপানাদের প্রতি ঋণি। আমরা আগামীতে দেশ সেবার সুযোগ পেলে, সরকার গঠন করতে পারলে আপনাদের ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করব। আজীবন আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব।
তিনি আরও বলেন, আপনারা ভোট দিতে পারেননি বহুদিন। এখন ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন, চঞ্চল হয়ে আছেন, পিপাশার্ত হয়ে আছেন। আপনার ভোট কেউ যদি ডাকাতি করে নিতে আসে তাহলে রুখে দিতে হবে। এই দেশ থেকে বৈষম্য, অবিচার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, স্বৈরতন্ত্র বিদায় দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক, আধিপত্যবাদমুক্ত, দুর্নীতি ও দুঃশাসন মুক্ত মানবিক বাংলাদেশ সৃষ্টির না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
জেলা জামাতের সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ দল মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রমুখ।



