জাতীয় সংবাদ

অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান সুজনের

প্রবাহ রিপোর্ট : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা না রাখলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবারবেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে সুজন। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে বহু অংশীজন জড়িত। সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটার- সবার সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সুজন বলছে, নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলা হয়, কমিশনকে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত, কালোটাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন আয়োজন, আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং অনিয়ম হলে ভোটকেন্দ্র স্থগিত বা ফল বাতিলের নির্দেশ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সুজন বলেছে, ‘যে কোনো মূল্যে বিজয়ী হওয়ার’ মানসিকতা পরিহার করে নির্বাচনকে প্রতিযোগিতা হিসেবে নিতে হবে। আচরণবিধি মেনে চলা, সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণাও দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পক্ষপাতমুক্ত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া বিচার বিভাগকে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনপূর্ব ১০ দিনে কোনো নির্দেশনা দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এসময় গণমাধ্যমকে অনুসন্ধানী ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রকাশের তাগিদ দেওয়া হয়। ভোটারদের উদ্দেশে বলা হয়, অর্থ বা আবেগের বশবর্তী না হয়ে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু প্রত্যাশা ও অপ্রাপ্তির কথাও তুলে ধরে সুজন। জোটগত নির্বাচনের কারণে দলবদল, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের একাধিক সুপারিশ আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং তৃণমূলভিত্তিক প্রার্থী মনোনয়নের বিধান বাস্তবায়ন না হওয়াকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো কার্যকর করা হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হতো। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সব অংশীজন সুজনের এই আহ্বান ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button