জাতীয় সংবাদ

এবারের নির্বাচনে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে: বদিউল আলম মজুমদার

প্রবাহ রিপোর্ট : গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও সাবেক নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন। এর মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয় বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবার নাগরিক সমাজকে ল্যাপডগ নয়, বরং ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করতে হবে।’ গতকাল রোববার দুপুরে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার বিষয়ে জেলা সুজন-এর উদ্যোগে বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেটের একটি হোটেলে আয়োজিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনও নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই এই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাক্সক্ষা।’ ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ‘নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, টাকার অশুভ প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীয়করণ দেখা গেছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।’ সংলাপে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংলাপে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সুজনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button