জাতীয় সংবাদ

একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্তের ষড়যন্ত্র করছে, সতর্ক থাকুন : তারেক রহমান

প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। সবাই সতর্ক থাকুন।’ সোমবার বিকেলে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি। মানুষের ভোটের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যারা এসব করেছে, তারা দেশ ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু, এখনো একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে যে যার ভোটকেন্দ্রের সামনে যাবেন। ওখানে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের নামাজ পড়বেন। ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে একদম ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন। অন্য ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবেন।’
ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু ভোট দিয়ে চলে এলেই হবে না। যেহেতু আপনারা ধানের শেষে ভোট দিচ্ছেন, কেউ যেন কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। একদম ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। বাক্স পাহারা দিতে হবে, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যেন কেউ এদিক-ওদিক করতে না পারে, ভোট ষড়যন্ত্র করতে না পারে। নিজেদের ভোট কড়ায়-গ-ায় বুঝে নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরবেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘হাতিয়ার মানুষের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব, পর্যাপ্ত স্কুল-কলেজ না থাকা, চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কৃষিকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা। এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রয়োজন একটি কার্যকর সরকার এবং জনবান্ধব পরিকল্পনা। জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে এসব সমস্যার সমাধানে ধাপে ধাপে কাজ শুরু করা হবে।’
নিজের কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। হাতিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে খেটে খাওয়া মানুষ, মা-বোন ও কৃষকদের নানা সংকট রয়েছে। এসব শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের জন্য ক্লাস ওয়ান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা বিনা খরচে চালু করা হয়েছিল। এর ফলে বর্তমানে স্কুল-কলেজে ছেলেদের পাশাপাশি সমান সংখ্যক মেয়েরা লেখাপড়া করছে। তবে শুধু শিক্ষা নয়, ভবিষ্যতে শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মা-বোনদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা দেশ উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার। আমরা আপনাদের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করবো। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের গৃহিণী ও নারীদের হাতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হবে। যাতে তারা সংসার পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি পান এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।’
কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে উল্লেখ করে তরেক রহমান বলেন, বিএনপি ‘কৃষি কার্ড’ চালু করতে চায়। সারা দেশে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা করে তাদের হাতে এই কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত বছরে একটি ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা সরকারিভাবে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের খেটে খাওয়া কৃষকরা শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বেকারত্ব দূর করা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, হাতিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক শিক্ষিত তরুণ-যুবক রয়েছেন। কিন্তু কাজের অভাবে তারা বেকার হয়ে আছেন। তাদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দেশে থেকেই নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারবে বা ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ব্যাংক ঋণের সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে যারা বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে যাবেন, প্রশিক্ষণ থাকলে তারা ভালো চাকরি ও বেশি বেতনের সুযোগ পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাতিয়ায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়া কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এখানকার হাসপাতালকে আরো বড় ও আধুনিক করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি একটি নতুন ধারণার কথা বলেন, ‘হেলথকেয়ার কর্মী’। এই কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরে ঘরে পাঠানো হবে, যাতে তারা মা-বোন ও শিশুদের ছোটোখাটো অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা ঘরেই দিতে পারেন। এতে করে বিশেষ করে নারীদের আর সামান্য অসুখের জন্য হাসপাতালে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।
এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও খতিবরা মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাদের সঙ্গে থাকেন এবং নানা সময়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মসজিদ কমিটির অনিশ্চয়তা দূর করতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি প্রণয়ন করা হবে। এর ফলে তাদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং নিয়োগ-চ্যুতির ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার, উৎসব ভাতা, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বিএনপি কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ব্লক বাঁধের মাধ্যমে এ এলাকার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হবে।’
এ সময় স্থানীয় নেতারা তারেক রহমানের কাছে হাতিয়ার প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরেন— নদীভাঙন রোধে ব্লক ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভূমিহীনদের জন্য খাস জমি বন্দোবস্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা এবং জাহাজমারা ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় রূপান্তর করা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button