আবু সাঈদ হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

প্রবাহ রিপোর্ট : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম নিহত হওয়া আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফলে যেকোনো দিন এই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে সকালে কারাগার থেকে এ মামলার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। আদালতে সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে আইনজীবী মামুনুর রশীদ, ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম শুনানি করেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর সারাদেশে আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। এই হত্যার ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয় এবং একই বছরের ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করে মামলাটি এখন চূড়ান্ত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছালো।
