জাতীয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধে খাসিয়াদের বীরত্বগাথা নিয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

প্রবাহ রিপোর্ট : জাতির পূর্বপুরুষদের কথা মনে রাখতে হবে, কারণ গুণীজনদের সম্মান না করলে দেশ কখনও মর্যাদাবান হয় না। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর অবদান স্মরণ না করলে এক ধরনের অকৃতজ্ঞতার জন্ম হবে। তাই স্বাধীনতার এসব না-বলা বীরত্বগাথা লেখালেখির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর বিশেষ অবদান নিয়ে রচিত “ঞযব কযধংরং রহ ঃযব খরনবৎধঃরড়হ ড়ভ ইধহমষধফবংয” বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ভারতের মেঘালয় সরকারের আর্টস অ্যান্ড কালচার বিভাগের সহযোগিতায় বইটি লিখেছেন আইনজীবী ও লেখক ড্যানিয়েল স্টোন লিংডো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। তিনি ইতিহাসের পাতায় লিখিত ও অলিখিত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর অবদান কোনো অংশেই কম নয়। ইতিহাসের পাতায় কেউ হয়তো স্বীকৃতি পেয়েছেন, কেউ পাননি; কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ অমূল্য। রাষ্ট্রকে একদিন খাসিয়াদের জমি দখল ও অবহেলার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ জাতিসত্তার ইতিহাস জানার ও দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। বইটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ও বইটির বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন বইটির লেখক ড্যানিয়েল স্টোন লিংডো। লেখক তার বক্তব্যে জানান, বইটিতে তিনি ১৯৭১ সালে খাসিয়া সম্প্রদায়ের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং তাদের ত্যাগের অলিখিত ইতিহাসকে প্রামাণ্য দলিলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন। মানবাধিকার কর্মী ত্রিজিনাদ চাকমা বলেন, যেখানে রাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রে আদিবাসীদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে এই বইটি একটি লিখিত দলিল হিসেবে কাজ করবে। লেখক ও গবেষক ড. ঈশিতা দস্তিদার মন্তব্য করেন যে, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য হারিয়ে যাচ্ছে, এমন সময়ে ড্যানিয়েলের এই কাজ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সম্মানিত অতিথি বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এন্ড্রু জয়েল সলমার তার কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ভারতীয় নাগরিক হয়েও বাংলাদেশের খাসিয়াদের অবদান যেভাবে লেখক তুলে ধরেছেন, তা আমাদের পাহাড় ও সমতলের সকল আদিবাসীদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি চিরন। এ ছাড়াও আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ্রময় মাহাতোসহ চাকমা, গারো, খাসিয়া, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুর্মী চাকমা।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button