জাতীয় সংবাদ

ফেনীসহ ৩১ জেলায় মেডিকেল কলেজ হবে : ডা. শফিকুর রহমান

প্রবাহ রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেছেন, ১১টি দল একাকার। আর কোন মান-অভিমান চলবেনা। আধিপত্যবাদ, মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভোট তুলে আনতে হবে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১১ দলকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি বলেন, ১২ তারিখ প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদি। রাজার ঘরে জন্ম হলে রাজা হবে না, মন্ত্রীর ঘরে জন্ম হলে মন্ত্রী হবে না। এই সংস্কৃতিকে পাল্টে দিতে হবে। এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে রিকশাওয়ালার ছেলেও প্রধাননমন্ত্রী হতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাতে চাই। সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন। খবরদার মাদের সম্মান নিয়ে টান দেবেন না, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। মায়ের বেইজ্জতি সহ্য করতে পারবো না। হাদী, রেজাউল করিম, আবু সাঈদের কী দোষ ছিল? ‘বুকের ভিতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’ শ্লোগান দিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। বীরেরা পালায় না, দোয়া করি প্রত্যেকটি মায়ের ঘরে বীর জন্ম হোক। যুবক ভাইদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাইনা, তাদের কাজ দিয়ে মর্যাদা তুলে দিতে চাই। বুকের দিকে আঙ্গুল তুলে বলতে হবে আমিই বাংলাদেশ। মা’দের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা’দের দৃষ্টি- পরিবর্তনের বাংলাদেশের দিকে। মায়েদের দোয়া আমাদের শক্তি। আস্থার প্রতিদান দিতে লড়ে যাবো। কওমী মাদরাসা আমাদের কলিজা। কথায় নয় কাজে প্রমাণ করবো। যারা ভয় দেখায় তারা মতলববাজ। ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
জামায়াত আমির বলেন, ৩৬ জুলাই এর আগে গোটা দেশ ছোপ ছোপ রক্তে ভরে গিয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। ফেনীবাসী ছিলেন আরো সন্ত্রাসের রাজ্যে। বংশানুক্রমে সন্ত্রাস।
জুলাইজুড়ে আন্দোলন করেছেন। ৫ আগস্ট বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। তিনি ফেনীর মেয়ে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, তিনি আধিপত্যবাদকে প্রশ্রয় দেননি। ফেনী জেলার মানুষ মকবুল আহমাদ দুর্দীনে জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বিপ্লবের পরপরই সীমান্তের ওপার থেকে তেড়ে আসা পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে ফেনী জেলা সমুদ্রে পরিনত হয়েছিল। কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুঃখের সঙ্গী-সাথী হতে তখন এসেছিলাম। ফেনী নদী নিয়ে কথা বলায় আবরার ফাহাদকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি দেশের ন্যায্য প্রাপ্যের কথা বলেছিলেন। আধিপত্যবাদের দোসররা সহ্য করতে পারেনি। মহিপালের ১২ জন শহীদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠের নির্বাচনি জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। বেলা ১১টার দিকে মঞ্চে উঠলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থক স্লোগানের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।
তিনি হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে।
তিনি পৌনে ১১টার দিকে আকাশপথে হেলিকপ্টার যোগে ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন।
জনসভায় জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা জনসমাগম সামাল দিতে এবং সবাইকে মঞ্চের দৃশ্য দেখানোর জন্য ৫টি বিশাল পর্দায় (এলইডি স্ক্রিন) সভায় সম্প্রচার করা হয়।
অর্থনীতিতে ফেনীর বিশেষ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে কোন জেলায় মেডিকেল কলেজ বাদ থাকবেনা।
দেশবাসী সুযোগ দিলে ফেনীসহ ৩১ জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হবে। বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে।বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শান্তিপুর্ণ সমাধান করা হবে।ফেনীতে মানসম্মত স্টেডিয়াম নাই। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু তাহের মোহাম্মদ মাছুম, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আতিকুর রহমান।
জেলা সেক্রেটারী মুহাম্মদ আবদুর রহীমের পরিচালনায় ফেনী-১ আসনের প্রার্থী এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন মানিক ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা ও একেএম শামসুদ্দিন, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু উউসুফ ও মাওলানা মাহমুদুল হক, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোহাম্মদ আলী মিল্লাত, এনসিপির সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ ।
মুফতি আবদুল হান্নান জানান, এই জনসভা থেকে ডা. শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই তৃণমূলের নেতাকর্মী সহ সর্বস্তরের জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।
শুক্রবার বেলা ৩ টায় লক্ষ্মীপুর সরকারি সামাদ স্কুল মাঠে ১১ দল আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের আমানত ও ভোটে জয়ী হওয়ার সুযোগ পেলে ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি চললেও আগামীতে তা আর সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা বা কার সন্তান তা দেখা হবে না। আমরা সেদিন হবো নির্দয়, নিষ্ঠুর ও কঠোর। যারা রাজনীতি করবেন আবার চাঁদাবাজিও করবেন, তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই হয়েছে বলেই আমরা কথা বলতে পারছি। জুলাই হয়েছে বলেই আমরা ভোট দিতে পারবো। রাজার ছেলে রাজা হবে তা হতে দিতে পারি না। পরিবর্তনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। এ দেশে একজন রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি-মন্ত্রী হতে পারবে।’
শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সে বুক পেতে বলেছিল, বুক পেতেছি, গুলি কর। সে পালিয়ে যায়নি, বরং তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত রেখে গেছে। এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার, যা প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা একিউএম মাষ্টার রুহুল আমিন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের (রামগঞ্জ) ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী (এনসিপি নেতা) মোঃ মাহবুব আলম, লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম, লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর ও রামগতি) আসনের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত-আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button