কুমিল্লায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৭

প্রবাহ রিপোার্ট : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা একে অপরকে দায়ী করেছেন। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন। আহতরা হলেন- জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল, কাজী রাসেল ও রিফাত সানি এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী। তাৎক্ষণিকভাব বাকিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ফেরার পথে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন বলেন, “সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারীরা তাদের ওপর হামালা চালায়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী বলেন, “দুপুরে সমাবেশ করে ফেরার পথে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। “এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমি ও আমার গাড়িচালক আহত হই।” ওসি কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। বর্তমানে পরিস্থতি শান্ত রয়েছে।



