গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের জয় হবে : জামায়াতের আমির

প্রবাহ রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের জয় হবে। তার ভাষায়, “হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামী।” তিনি আরও বলেন, আমরা আবরার ফাহাদ ও শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির মতো আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
শনিবার বিকেলে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে গেলে যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায় তারা আসলে মানুষ নয়। মা-বোনরা ঐক্যবদ্ধ, আগামী ১২ তারিখে এর ফল দেখতে পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির আব্দুল জব্বার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মশিউল আলম এবং ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এনসিপির ঢাকা জেলা সমন্বয়ক রাসেল মোল্লা, ছাত্রশিবিরের ঢাকা জেলা দক্ষিণের সভাপতি মাহমুদ আল সিয়াম, এনসিপির ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাশদিদ, ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হক, ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম এবং ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম।
জামায়াত আমির বলেন, জাতি চিন্তা করেনি ফ্যাসিস্টরা অপদস্ত হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন হবে। জাতি চিন্তা করেনি ছোপ ছোপ রক্ত ও সারি সারি লাশ থেকে রেহাই পাবে।
৫ আগস্টের পর দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধ নেব না বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নেয়, তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
অপরদিকে, চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাইস্কুল মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদকে দেখতে চাই না, আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন দেখতে চায়।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ থেকে যে পরিবর্তন আসবে, তা আসবে এ দেশের মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভর করে। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদকে মানবো না, আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাইছি না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। চৌদ্দগ্রামে ১১ দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এই প্রতীককে সামনে নিয়ে এগারো দলকে লড়ে যেতে হবে।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সাধারণ পোশাক পরা মহিলাও এখন জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আমাদের মায়েদের ওপর হাত দেবেন আর আমরা বসে বসে দেখবÍ এটা হতে পারে না। তখন আমাদের জবাব দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।
কওমী মাদ্রাসা বন্ধের গুজব মিথ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বংশীয় ধারাক্রমে কওমীর একজন প্রতিনিধিত্বকারী আল্লামা মামুনুল হককে সঙ্গে নিয়ে আমরা কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করব নাকি? এ রকম আরও অনেকে আমাদের সঙ্গে আছেন। তবে মানুষ পোড় খেতে খেতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ এখন আর গুজব কানে তুলে না।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন শুধু সম্মুখপানে যাওয়া। আমাদের লক্ষ্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, ১১ দলের যে প্রতীক যেখানে থাকবে, সেটাই হবে সবার প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি যে আগামীতে ঐক্যের সরকার গঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাইনা। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, পরিবার কারো স্বার্থ দেখবো না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখব।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চাই। এই শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কিছু হবে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেটার এডুকেশন, বেটার নেশন।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ আগামী ১২ তারিখ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা জনগণের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি।
তিনি বলেন, আমরা চাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, নিয়ম-কানুন মেনে, সবাই একে-অপরকে সম্মান করে এগিয়ে যাক। শনিবার দেওয়া বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে দেশের কিছু এলাকায় আমাদের মা ও বোনদের প্রতি চরম অবমাননাকর আচরণ করা হচ্ছে, যা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।
ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের ঘরেও মা আছেন, বোন আছেন। দয়া করে তাদের সম্মান করতে শিখুন। আল্লাহ আপনাদের সম্মান বাড়িয়ে দেবেন। একই সঙ্গে নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা চোখে চোখ রেখে বলবেন, এটা আমার অধিকার, এটা আমার দায়িত্ব।’
জামায়াত আমির বলেন, কেউ যদি এই অপকর্ম থেকে সরে না আসে, তবে জনগণ নিরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চায় না। তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটি গণভোটে পুরোনো বন্দোবস্ত ও বৈষম্যের রাজনীতি পরিবর্তন করে সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংস্কার প্রস্তাবের প্রথম ভোট হবে এই নির্বাচন। যারা পরিবর্তন চায়, তারা ভোট দেবে। আর যারা পুরোনো দমনমূলক ব্যবস্থাই চায়, তারাও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী একা নয়, ১১টি দল নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাইÍ যেখানে সব ধর্ম, সব মত ও সব মানুষকে নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে।



