জাতীয় সংবাদ

৫৩ আসনে সহিংসতার শঙ্কা, সতর্কতায় পুলিশ

সংসদ নির্বাচন

প্রবাহ রিপোর্ট : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ৩০০ আসনের ৫৩টিতে সহিংসতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। এসব এলাকায় পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভোটের দিন হট্টগোল, হামলা-পাল্টা হামলা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।
পুলিশ সূত্র জানায়, একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকা, অতীত নির্বাচনে সহিংসতার ইতিহাস, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হওয়া, পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক এবং বাম চরমপন্থি প্রভাব—এসব কারণে আসনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোর ভোটকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ ছক কষেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এবং ভোটের দিন থাকবে বিশেষ নজরদারি। বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আগাম সতর্কতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের মোবাইল পার্টি, পিকেট পার্টি, হাঁটা টহল ও গাড়ি টহল জোরদার করা হবে। বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরো সক্রিয় করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে।
এছাড়া ভোটের কদিন আগে থেকে ভোটকেন্দ্র-সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্ত দমনে বিশেষ অভিযান ও বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালানো হবে। পুলিশ বলছে, এসব আসনে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভাব, ছিন্নমূল ও বস্তিবাসীর সংখ্যা বেশি থাকায় সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রাজারবাগে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা যেন না ঘটে, সে জন্য সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইজিপি বাহারুল আলম বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, নির্বাচন সহিংসতামুক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, দিনাজপুর-২ ও ৫, নীলফামারী-১ ও ৪, রংপুর-১ ও ৪, কুড়িগ্রাম-১, গাইবান্ধা-৩, বগুড়া-৩, নওগাঁ-২ ও ৩, রাজশাহী-৪ ও ৫, নাটোর-১ এবং সিরাজগঞ্জ-৩ আসন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ-১, টাঙ্গাইল-৩, পাবনা-৩, নারায়ণগঞ্জ-২ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, গোপালগঞ্জ-১ ও ২, ঝিনাইদহ-১, সাতক্ষীরা-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, নোয়াখালী-১ ও ৩, শরীয়তপুর-১ ও ২, চাঁদপুর-১, ময়মনসিংহ-২ ও ৬, ঢাকা-১, ৯, ১৫ ও ১৬, চট্টগ্রাম-১, ২ ও ৬, নরসিংদী-৩, লক্ষ্মীপুর-২, ফরিদপুর-১ ও ৩, মাদারীপুর-১, মৌলভীবাজার-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কুমিল্লা-৩, ফেনী-১, কক্সবাজার-৪ এবং খাগড়াছড়িও ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রের নিরাপত্তা, টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
পুলিশের মতে, সহিংসতার বিষয়টি মূলত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণের ওপর নির্ভর করে। সে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সফর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন এবং মাঠপুলিশকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত একাধিক সভায় আইজিপি নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button