ডাকসু দিয়ে শুরু, ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে : জামায়াত আমির

প্রবাহ রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ) দিয়ে শুরু, জকসুতে (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ) এসে থেমেছে আপাতত। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের স্লোগান ছিল, আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। সেই দিন শেষ। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও। কিন্তু আমার ভোট কেড়ে নিতে আসলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো।”
বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকু- সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াত ইসলামী এই জনসভার আয়োজন করে।
মঞ্চে উঠে শফিকুর রহমান চট্টগ্রামবাসীর কাছে তাদের ভাষায় জানতে চান, ‘অনারা গম আছন নি (আপনারা কি ভালো আছেন)?
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, মায়েরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। কয়েকদিন আগে আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। লেগে লাভ হবে না, নিজেরা ফেঁসে যাবে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তাই আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। আমি, আমরা, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে চাই না। ক্ষমতায় আসবে ১৮ কোটি মানুষ। আমরা যেন রাষ্ট্রের সবকিছু বণ্টন করে দিতে পারি। যারা ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে দেশে কিছুই হয়নি, এ কথা বললে ভুল হবে। তবে যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ, যারা ভোটের আগে মিষ্টি কথা বলেছে, ভোট শেষ হতেই তারা সুর পাল্টে ফেলেছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাইয়ে স্লোগান ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস (আমরা ন্যায়বিচার চাই)। তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও।’
‘যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের অতি শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা বলে দিয়েছে আমরা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই- যোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না, পরিবারতন্ত্র চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের সরকার।’
বক্তব্য শেষে চট্টগ্রাম উত্তরের সাতটি আসনে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়েতের অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা শ্রমিক সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মনির, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম, সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব, কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম, ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, চবি শিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি প্রমুখ।
বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারি পথ খুঁজে পাবে : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারিতে পথ খুঁজে পাবে। ডাকসু থেকে শুরু জকসুতে এসে থেমেছে। আমরা চাই দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাত, ঋণখেলাপি মুক্ত বাংলাদেশ। সোমবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া এ সি এম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়বে যুবকেরা। যুবকেরা ঘুমিয়ে পড়ে নাই। তিনি বলেন, ‘২৪ না হলে ‘২৬ পাওয়া যেত না। যারা এটাকে অস্বীকার করে তাদের এই ‘২৬ এ লাল কার্ড।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই যুবক-যুবতীরা নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশ গড়ে দেবে। গর্ব করে বলবে এটা আমার বাংলাদেশ।
শফিকুর রহমান বলেন, বীরেরা কখনো মরে না। তারা জীবন দিয়ে বলে যায়, আমার জীবন তোমাদের জন্য দিয়ে গেলাম। তারা সৎ রাজনীতির উপদেশ দিয়ে চলে যায়। জীবন দেব, জুলাই কাউকে আমরা দেব না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, আমি বিএনপিতে ছিলাম। দুইজন সংগঠকদের মধ্যে আমি ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দুজনে মিলে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যাই। সেখানে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে টাকা পাচার করেছে সেগুলো থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে অন্যতম দেশ হতো। অলি আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন জিয়া, খালেদা জিয়ার বিএনপি নাই। তাই আমি বিএনপি ত্যাগ করেছিলাম। তিনি বলেন, আমরা বেইমান, দেশদ্রোহীদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে চাই। দেশ স্বাধীন রাখতে চাইলে আবারও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। একটা ভুল ভোটের কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ হতে পারে। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াত নেতা হামিদ হোসেন আজাদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম, বান্দরবান আসনে এনসিপির প্রার্থী এস এম সুজাউদ্দিন প্রমুখ।
শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এবার জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এটি জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন এবং মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। সোমবার কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি মহেশখালীতে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
উভয় সভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজার ছেলে রাজা হোক এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই। এদেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী যেই হোক, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, ১২ তারিখ আমরা নিজেরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব এবং দেশের জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবো। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।
জাতিকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কক্সবাজার একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানকার প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম উন্নয়নকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। সে জন্য ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমরা বেঁচে থাকলে কোনো ওয়াদা বরখেলাপ হবে না ইনশাআল্লাহ।
এ সময় তিনি প্রতিটি আসনের প্রার্থীকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং যুবকদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা তৈরি হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এটি জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন এবং মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণ নতুন একটি বাংলাদেশ পাবে।
তিনি বলেন, ১২ তারিখ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশের জনগণ তা প্রমাণ করে দেবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্য বন্ধেরও ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।
এর আগে, মহেশখালীর জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সেটিই হবে প্রকৃত বিজয় আমিও সেই বিজয়ের অংশ হবো, ইনশাআল্লাহ।
সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কোরআন তেলওয়াতের মধ্যদিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা’র কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. সিগবাতুল্লাহ সিফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।



